আজকাল ওয়েবডেস্ক: কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিং হোল্ডিংস গ্রুপের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির কেন্দ্রীয় প্রস্তাবের পরেই শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল। এবার সেই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধেই জোরালো প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের যৌথ মঞ্চ। অল ইন্ডিয়া আইডিবিআই অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে গঠিত 'ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ' (UFIOE) ব্যাঙ্ক ম্যানেজমেন্টকে ২ এবং ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী অনশন ধর্মঘটের নোটিশ দিয়েছে। শিল্প সম্পর্কিত বিধি ২০২০-র অধীনে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে ব্যাঙ্কগুলিকে। দেশে ব্যাঙ্কের সমস্ত শাখা ও কার্যালয়ে এই ধর্মঘট পালন করা হবে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, কর্মী সংগঠনের মূল দাবি, কেন্দ্রকে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের বিক্রির প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। এলআইসি (LIC) থেকে বা শেয়ার বাজার থেকে অন্তত ৬ শতাংশ শেয়ার কিনে ব্যাঙ্কে সরকারি অংশীদারিত্ব সর্বনিম্ন ৫১ শতাংশে বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠন। সংগঠনের তরফে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে সংসদে সরকার যে ব্যাঙ্কে তার সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বজায় রাখবে, সেই প্রতিশ্রুতিও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রস্তাবিত চুক্তিতে সরকার ও এলআইসির অংশীদারিত্ব কমিয়ে ব্যাঙ্ককে ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের পাশাপাশি বর্তমান ব্যাঙ্ক কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার এবং সুরক্ষা নিয়েও একাধিক দাবি তুলেছে ইউনিয়ন। সেগুলি হল—
- চাকরির বর্তমান শর্তাবলি, বেতন, জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা, পেনশন ও সংরক্ষণের নীতি বজায় রাখার লিখিত আইনি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
- ব্যাঙ্ক বিক্রি চূড়ান্ত হলে, বর্তমান আধিকারিক ও কর্মীদের চাকরি, পদমর্যাদা, বেতন ও সুপারঅ্যানুয়েশন ভাতা বজায় রেখে অন্য কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে স্থানান্তরের বিকল্প সুবিধা দিতে হবে।
- ব্যাঙ্কে কর্মরত সমস্ত চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সড কর্মীদের স্থায়ীকরণ করতে হবে।
ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থার সাম্প্রতিক উন্নতির পরেও ব্যাঙ্কের মালিকানা বদলের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে কর্মী সংগঠন। তাদের মতে, বেসরকারীকরণ হলে ব্যাঙ্কের কোটি কোটি আমানতকারী, কৃষক, ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতা এবং সাধারণ কর্মীরা বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
তবে ফোরাম স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তাদের দাবি না মানা হলে আগামী দিনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট-সহ আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
