The Sangbad · স্বাস্থ্য
সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক
১৭/১০/২০২৬

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সরকারি বরাদ্দের স্বল্পতা, সেবার নিম্নমান, জনবল সংকট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্র ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে যেমন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তেমনি প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসার মুখেও পড়ছেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। ফলে চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে, এমনকি দারিদ্র্যরে দুষ্টচক্রে আটকে যায়। অথচ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির তুলনায় সরকারি বরাদ্দ এখনো অত্যন্ত কম। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, আধুনিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে মানুষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে দালালচক্র।সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসা। বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোর বড় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের প্রবেশপথ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের আশপাশে সক্রিয় দালালচক্র অনেক রোগীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে না; বরং পরিবহনচালক, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। কোথাও কোথাও হাসপাতালের অসাধু কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পরিবর্তে অসহায় রোগীদের প্রতারণা ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।দালালদের প্রধান লক্ষ্য গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনেরা। আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রবেশপথ পর্যন্ত তাদের তৎপরতা দেখা যায়। অনেক সময় রিকশা বা সিএনজিচালকেরা কম ভাড়া নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রোগীদের আস্থা অর্জন করেন। পথে যেতে যেতে রোগীর গন্তব্য ও অসুস্থতার বিবরণ জেনে তারা নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক কথা বলেন এবং পরিচিত বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভালো চিকিৎসা পাওয়ার প্রলোভন দেখান। রোগীকে সেখানে নিয়ে যেতে পারলে তারা কমিশন পান বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে কোথায় যেতে হবে, কীভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে কিংবা কোথায় ভর্তি হতে হবে—এসব বিষয়ে অপরিচিত রোগীর অসহায়ত্বকে কাজে লাগানোই তাদের কৌশল। সাহায্যের ভান করে শুরু হওয়া এই প্রতারণা শেষ পর্যন্ত রোগীর বাড়তি ব্যয় ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আরেকটি কৌশল হলো সরকারি হাসপাতালে শয্যা নেই, চিকিৎসক পাওয়া যাবে না কিংবা চিকিৎসা পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে—এমন কথা বলে রোগী ও স্বজনদের ভয় দেখানো। জরুরি বিভাগে আসা একজন অসুস্থ মানুষ কিংবা তার উদ্বিগ্ন স্বজনেরা যখন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তখন দালালদের পক্ষে তাদের প্রভাবিত করা সহজ হয়। এভাবে রোগীকে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে কমিশন নেওয়া হয়। কোথাও কোথাও হাসপাতালের অসাধু চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। কোনো সরকারি কর্মচারী রোগীকে প্রতারণার মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে আর্থিক সুবিধা নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে শয্যা, চিকিৎসক ও পরীক্ষার সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সহজে জানার ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীকে বিভ্রান্ত করা না যায়।স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দালালচক্রের প্রভাব উদ্বেগজনক। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা রক্তের ব্যবস্থা না পেয়ে অনেক রোগীকে বাইরের প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। এই সুযোগে কিছু দালাল তাদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়, যেখানে পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। আরও গুরুতর বিষয় হলো, অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষা না করেই প্রতিবেদন তৈরি এবং চিকিৎসকের নাম বা সিল অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়ম রোগ নির্ণয়ে ভুলের ঝুঁকি বাড়ায় এবং রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদন, যন্ত্রপাতি, জনবল ও পরীক্ষার মান নিয়মিত যাচাই করতে হবে। ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি কিংবা রক্তদাতার স্বাস্থ্যগত তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।দালালচক্রের সঙ্গে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক স্বার্থের সংঘাতও জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু চিকিৎসক রোগীকে নিজেদের পছন্দের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে বলেন এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন দেখতে অনীহা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে পরবর্তী সময়ে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে যেতে উৎসাহিত করেন। তবে সব চিকিৎসককে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা ঠিক হবে না। অধিকাংশ চিকিৎসক সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু যাঁরা পেশাগত দায়িত্বের অপব্যবহার করেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। রোগীর প্রয়োজনের বাইরে পরীক্ষা করানো, পরীক্ষার বিনিময়ে কমিশন নেওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারে উৎসাহিত করার অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং প্রতিবেদন দেখানোর জন্য পুনরায় ফি নেওয়ার বিষয়েও স্বচ্ছতা থাকা দরকার। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও সহজ ভাষায় চিকিৎসা বুঝিয়ে বলা সেবার মানের অপরিহার্য অংশ।সরকারি হাসপাতালের হুইলচেয়ার, ট্রলি ও অন্যান্য সহায়ক সেবা নিয়েও রোগীদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব সেবা বিনা মূল্যে বা নির্ধারিত নিয়মে পাওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও রোগীর স্বজনদের অর্থ দিতে হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। অসুস্থ রোগীকে বহন করার মতো জরুরি সেবাকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করা অমানবিক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এসব সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোথায়, কার কাছে অভিযোগ জানাতে হবে, তা দৃশ্যমান স্থানে উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের দায়িত্ব নির্ধারণ, নিয়মিত তদারকি এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটও রোগীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের আশপাশে সক্রিয় কিছু অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী পরিবহনে বাধা দেন এবং রোগীদের নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য করেন। এতে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ফিরতি পথে রোগী পরিবহনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে চালককে খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয়, আর রোগী ও স্বজনেরা বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হন। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ রোগীর পরিবহন-অধিকার ও জরুরি চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করে।অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ ও পরিচালনার জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। ২০২৩ সালে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি হলেও তা গেজেট আকারে প্রকাশ ও বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভাড়া নির্ধারণ, সেবার মান ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়ে গেছে। সরকারকে প্রয়োজনীয় জরিপের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সচল অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য উন্নত সুবিধাসম্পন্ন ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের উপযোগী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নিবন্ধন, ভাড়া, সেবার মান ও রোগী পরিবহনের অধিকার নিশ্চিত করে কার্যকর বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। হাসপাতালকেন্দ্রিক কোনো চক্র যেন রোগী পরিবহনে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।শুধু অভিযান চালিয়ে দালালচক্র নির্মূল করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা সত্ত্বেও একই ধরনের অনিয়ম ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে। এর কারণ অনুসন্ধান করা দরকার। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের শনাক্ত করতে হবে। হাসপাতালের প্রবেশপথ, জরুরি বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো, পরিচয়পত্রধারী কর্মী ছাড়া অন্যদের রোগী ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে দালালদের প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের আওতার বাইরে থাকতে না পারে।স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে হাসপাতালের দালাল নির্মূলে সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হুইলচেয়ার ও ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ইউনিফর্মধারী কর্মী ছাড়া অন্যদের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দেশনা জারি করাই যথেষ্ট নয়; বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। হাসপাতালের জনবল সংকট, পরীক্ষার সুযোগের ঘাটতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাব দূর না হলে দালালচক্র নতুন কৌশলে ফিরে আসবে। উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, দক্ষ জনবল ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো এবং সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সরকারি হাসপাতাল জনগণের অর্থে পরিচালিত জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও কমিশন বাণিজ্যের শিকার হতে দেওয়া যায় না। এ জন্য সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ ও কার্যকর যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে হবে, যাতে তারা দালালদের প্রলোভনে না পড়ে হাসপাতালের নির্ধারিত সেবা গ্রহণ করতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর আর্থিক সামর্থ্য বা পরিচয় নয়, বরং তার প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কঠোর আইন প্রয়োগ, কাঠামোগত সংস্কার ও কার্যকর জবাবদিহির মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা সম্ভব। প্রতিটি রোগী যেন হয়রানি ছাড়াই প্রাপ্য চিকিৎসা পান—এটাই হওয়া উচিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের প্রধান অঙ্গীকার।(লেখকের নিজস্ব মত)[লেখক: উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন]
মূল প্রতিবেদনে যান ↗