নাটোরের লালপুরে জমির পুকুরে পড়ে থাকা নিমগাছ তোলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো হাসুয়ার কোপে মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে সাধু (৪২) নামের এক ব্যক্তির বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির বড় ভাই মো. সাহাবুল ইসলাম (৪১) বাদী হয়ে লালপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী সাহাবুল ইসলাম ও বিবাদী মো. আবুল মজিদ (৪৫) এবং মোছা. আরিফা বেগম (৩৮) পরস্পরের প্রতিবেশী। তাঁদের সবার বাড়ি লালপুর উপজেলার ৬ নম্বর দুয়ারিয়া ইউনিয়নের মহেশ্বর এলাকায়।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে তাঁদের ও অভিযুক্তদের জমি মাপামাপির সময় অভিযুক্তদের জমিতে থাকা একটি নিমগাছ তাঁদের জমির পুকুরে পড়ে যায়। এরপর গাছটি পুকুর থেকে তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তদের বলা হলেও তাঁরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে লালপুর থানাধীন মহেশ্বর মৌজায় আফজাল হোসেনের (৬০) বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের একজনের ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গাছটি কাটাচ্ছিলেন সাহাবুদ্দিন ওরফে সাধু।
এ সময় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে কোনো কথা না বলেই হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাঁকে কোপাতে থাকেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, কোপ ঠেকাতে সাহাবুদ্দিন বাম হাত সামনে আনলে তাঁর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহারে চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মাহাবুল ইসলাম (৩৫), সাইদ আলী (৩৫), উকা মোল্লা (৪৫) ও আবু হানিফ (৫০)। তাঁদের সবার বাড়ি গড়হপুর এলাকায়।
পরে স্থানীয়রা আহত সাহাবুদ্দিনকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেটে বাম বৃদ্ধাঙ্গুলে গুরুতর আঘাত, ডান কোমরের নিচের অংশে ক্ষত এবং বাম বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ১৩ অক্টোবর তাঁর বাম হাতের আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। একই দিন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
বাদী সাহাবুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে যান। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
