দুর্নীতির মামলায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি রেখেছে আদালত।
আর সাবেক পরিবেশ বিষয়ক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমার দিন পিছিয়ে রাখা হয়েছে ২৮ জানুয়ারি।
মামলা দুটির প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। তবে তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।
এ কারণে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আয়েশা আক্তার মৌসুমী নতুন দিন রাখেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম।
এদিন শুনানিকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
পাশাপাশি গত ৩০ জুলাই পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নূর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে তার অ্যাকাউন্টে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, নূরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসব লেনদেনের উৎস ‘অস্পষ্ট’।
২০০১ সালে নীলফামারী-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান নূর। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।
জ্যাকবের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯ হাজার ৯২৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখা এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে মোট ৮৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
