ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ১৬৩ জন রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়াও চলতি মাসের এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২০ জনে। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেলায় সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ৪৯৭ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণের বেশি বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ১৬৩ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২১ জন ফেনী সদর উপজেলায়, ১ জন দাগনভূঞা, ৫ জন সোনাগাজী এবং ২ জন ছাগলনাইয়া উপজেলার।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪৯৭ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তকৃত ১ হাজার ১৬৩ জনের মধ্যে ৮৬৭ জন সদর উপজেলার। এছাড়া দাগনভূঞায় ৮০, সোনাগাজীতে ১১১, ছাগলনাইয়ায় ৫৯, পরশুরামে ৩০ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭৭৩ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২০ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৪৪ জন, দাগনভূঞাতে ৫জন, ছাগলনাইয়াতে ২ জন, সোনাগাজীতে ১ জন এবং পরশুরামে ১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও জেলায় সর্বমোট ৩ হাজার ৭১৮ টি ডেঙ্গু কিট মজুত রয়েছে।
স্থানীয় মানুষরা বলছেন, কেবল শহরে নয়, গ্রামেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের তদারকি ও মশক নিধনে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ডেঙ্গু ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু রোধে এডিস মশার বংশবিস্তার ধ্বংসে পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলছে।
এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. রোকন উদ দ্দৌলা জানান, এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর ব্যাপক ভিড়, তার ওপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসময় সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ড. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৩ হাজার ৭১৮ টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ২ হাজার ৯১১টি, পরশুরামে ৫১টি, সোনাগাজীতে ২০৭টি, ফুলগাজীতে ৮৯টি, দাগনভূঞায় ৮৮টি এবং ছাগলনাইয়ায় ৩৭২টি কিট মজুত রয়েছে।
