‘আদিম’ দিয়ে মস্কোজয় করেছিলেন যুবরাজ শামীম। দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অতল’ (ইন বিটুইন লিভিং) দিয়েও নানা উৎসবে প্রশংসা পাচ্ছেন। তবে এবার একটি বিশেষ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে সিনেমাটির।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বিখ্যাত রিজেন্টস পার্ক গ্যালারিতে ৩০ অক্টোবর হবে প্রদর্শনী। আয়োজনে ক্ল্যাফাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও লার্কহল আর্ট ক্লাব।
কেন এই প্রদর্শনী বিশেষ? কারণ এখানে সিনেমাটি দেখবেন একদল চিত্রশিল্পী। শুধু তাই নয়, সিনেমাটি দেখতে দেখতেই তারা এর বিভিন্ন দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আঁকবেন ছবি। বিষয়টি জানিয়েছেন ক্ল্যাফাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক সাইমন বল। তিনি জানান, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন একদল দর্শকের কাছে নির্মাতার কাজ পরিচয় করিয়ে দিতে তারা আগ্রহী। পাশাপাশি, এই আয়োজন থেকে তৈরি হওয়া কিছু শিল্পকর্ম পরবর্তী সময়ে নির্মাতাকে দেয়া হবে।
খবরটি জেনে উচ্ছ্বসিত যুবরাজ শামীম। তিনি বলেন, 'অতল নির্মাণের শুরু থেকেই আমি ছবিটাকে ভিজ্যুয়াল পেইন্টিং বলছি এবং আমার ভাবনায় ছিল বাংলাদেশের পেইন্টারদেরকে অতল দেখাব। তবে ছবি দেখে যে অনুভূতি হয় তা ক্যানভাসে রুপ দেয়ার এমন আইডিয়া আমার মাথায় ছিল না এবং গ্যালারিগুলোতে যে এমন প্রদর্শনী হয়, এ সম্পর্কেও আমার কোন ধারণা ছিল না। পুরো বিষয়টা আমার কাছে নতুন এবং আমি খুবই আপ্লুত।'
প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আদিম’-এর সূত্র ধরে সাইমন বলের সঙ্গে যুবরাজ শামীমের পরিচয়। সেই পরিচয়ের ধারাবাহিকতায় সাইমন ‘অতল’কে কেন্দ্র করে এমন একটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। যুবরাজ বলেন, 'সাইমনের সঙ্গে আমার আদিমের সূত্র ধরে পরিচয়। সে যে ‘অতল’কে নিয়ে এভাবে ভেবেছে, এ বিষয়টায় আমি ভীষণ অবাক হয়েছি এবং সাইমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন আমি খুবই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি আর্টিস্টরা এই ছবিটা কিভাবে দেখেন, ছবিটা দেখার পর তাদের ভেতর কি অনুভূতি হয়, তারা কি আঁকেন!'
২০২৬ সালে নির্মিত ‘অতল’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। উৎসবের ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ বিভাগে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। পরবর্তীতে রাশিয়ার ১৯তম ‘ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট: ক্ল্যাসিকস অ্যান্ড অ্যাভান্ট-গার্ড’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগেও নির্বাচিত হয় এটি।
