গাড়িচাপা দেওয়ার মামলায় জেল হেফাজতে ছিলেন। জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেফতার হলেন এক ব্যক্তি। ইচ্ছাকৃত ভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরের (আরটিও) তরফে অভিযুক্তের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ওই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযুক্তের নাম সৌম্যরঞ্জন রথ। কটক-পুরী বাইপাসের কাছে সোমবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটে। সাড়ে ৮টা নাগাদ এক পথচারীকে ধাক্কা মেরে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায় তাঁর গাড়ি। মোটরবাইক নিয়ে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক দম্পতি। তাঁরা এই ঘটনা দেখে আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
পুলিশের অভিযোগ, সৌম্যরঞ্জন গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। ইচ্ছাকৃত ভাবে সেই সাহায্যকারী দম্পতির মোটরবাইকে ধাক্কা মারেন তাঁদের খুন করার উদ্দেশ্যে। এর পর তিনি সাতটি মোটরবাইকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এতে তিন জন আহত হন। ভুবনেশ্বরের জ়োন ফোরের এসিপি অভিমন্যু নায়কের দাবি, অভিযুক্তকে না-থামানো পর্যন্ত তিনি গাড়ি নিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যাক্তিকে ধাক্কা মারার চেষ্টা করেই যাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘোরানোর সময় আচমকা তাঁর গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সুযোগে তাঁকে পাকড়াও করে ক্ষুব্ধ জনতা। তাদের হাত থেকে সৌম্যরঞ্জনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিমন্যু আরও জানান, এই ঘটনার আগে মত্ত অবস্থায় রাস্তার ধারে একটি হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের উপর গাড়ি নিয়ে চড়াও হয়েছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। খুনের চেষ্টা, নির্দিষ্ট গতির বেশি গতিবেগে গাড়ি চালানো, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলা ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সৌম্যরঞ্জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমান খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম বোঝার এবং অভিযোগগুলি বিবেচনা করার চেষ্টা করছে। থানায় গিয়েছিলেন পরিবহণ দফতরের আধিকারিকেরাও। তাঁরা জানিয়েছেন সৌম্যরঞ্জনের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ও তাঁর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কেন এত জন নিরীহ মানুষকে ধাক্কা মারলেন তিনি, সেই ব্যাপারে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশের তরফেও এর কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে এই প্রথম নয়। চলতি বছর জুলাই মাসে তাঁর বিলাসবহুল গাড়িতে ভুবনেশ্বরে এক ব্যক্তিকে গাড়িচাপা দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সৌম্যরঞ্জন। জামিনে ছাড়াও পেয়েছিলেন। তার পরেই নতুন করে দুর্ঘটনায় জড়ান তিনি।
