জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সরকার দিনের ভোট রাতে করতে চায় না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবসৃষ্ট স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
‘ভোটের মৌসুম শেষ, তাই পূজামণ্ডপে দেখা নেই’
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে মানুষকে ঠকানো হয়েছে। গত পূজায় যেভাবে ঢাকের তালে নাচলেন, এবার কেন গেলেন না? ভোটের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের নেতারা ভোটের সময় মানুষের কাছে যান, বেহেশতের প্রলোভন দেখান এবং পূজামণ্ডপে উপস্থিত হন। কিন্তু ভোট শেষ হলে জনগণের খোঁজ নেওয়ার সময় তাঁদের থাকে না। তাঁরা মৌসুমি রাজনীতি করেন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় লং মার্চের নামে তেল-গ্যাস নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি।
‘বিএনপির লোক হলেও ছাড় নয়’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন। নির্বাচনে কেউ হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বিএনপির নেতা-কর্মী হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, ততটাই কঠোর হবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে থাকবে। সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সহজ হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশের সব উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হবে কৃষক কার্ড। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্যও বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করেই পাঁচ বছর পর আবার ভোট চাইতে যাবেন তাঁরা।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটের প্রয়োজন ছিল না বলে তারা জনগণের কাছে যায়নি। কিন্তু বিএনপির ভোটের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাঁরা বারবার জনগণের কাছে যাবেন, মানুষের কথা শুনবেন এবং তাঁদের পাশে থাকবেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পরে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ময়লা পরিবহনের জন্য গার্বেজ ভ্যানের উদ্বোধন করেন।
