

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। সেই অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সংযুক্ত করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, অতিরিক্ত ডিআইজি (রিয়েপার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
তবে কী কারণে তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে আদেশে কিছু বলা হয়নি।
এর আগে, সোমবার ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এলাকা জহিরের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ নারী ও পুরুষ মিলিয়ে ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষ রয়েছেন এবং একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন।
নজরুল-সুইটির মৃ'ত্যুদণ্ড কার্যকরের সেই ভিডিও নিয়ে অবশেষে যা জানা গেল!
মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজ করার অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথি নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকরের পর সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত বা কালো পাথরের কাছে এক ব্যক্তি এক নারীকে মাথায় ধাক্কা দিচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এ দুজন হলেন সেই বাংলাদেশি যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এই তথ্য বিভ্রান্তিকর জানিয়ে সৌদির দুই (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি পোস্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, “ভিডিওটি যে তথ্য দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে এটি মিথ্যা এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো প্রমাণও নয় এটি।” গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিঁথি আক্তার নামে দুজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক’ কাজ করার জন্য। তবে এর বেশি কোনো তথ্য আর তারা জানায়নি। এমনকি কবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা কোন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করেছিলেন সেটিও জানানো হয়নি। যদিও এখন ওই দুই বাংলাদেশি সম্পর্কে তথ্য আসা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, নজরুল ইসলাম তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি ছিলেন। এ সময় সপ্তাহে একদিন তিনি ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন। তবে পরিবারকে কোনো তথ্য না জানিয়ে গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: সেই সুইটিকে চেনেই না নজরুলের পরিবার, আরও যা জানালো
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলামের বাবা আব্দুল বাছির। তাঁর দাবি, সুইটি আক্তারকে চেনেই না তাঁদের পরিবার। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। আব্দুল বাছির বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা এখনো জানতে পারেনি পরিবার। ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও জানান আব্দুল বাছির। তিনি আরও বলেন, ‘সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাতারাও আমাকে চাপ দিচ্ছেন। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকলে এর বিচার চাই।’ স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দেন ২৫ বছর বয়সী নজরুল। দেশটিতে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। নজরুলের গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারলেও কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেনি। স্বজনদের দাবি, তিন বছর তিন মাস কারাবন্দি থাকার পর গত বুধবার নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে গ্রামের মানুষ তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন, পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, নজরুল এমন কোনো অপরাধ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না, যার জন্য তাঁকে এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা ছিল বলেও অভিযোগ করেন গাজী নিয়াজুল করিম। তাঁর দাবি, দূতাবাস যোগাযোগ করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের একই ধরনের সাজা হয়েছিল। ওই ব্যক্তির দেশের দূতাবাস উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত নজরুলের পরিবারের সঙ্গেও কেউ যোগাযোগ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন এলেও মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির ক্ষেত্রে আইনি সংস্কার প্রয়োজন। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

সৌদিতে নজরুল-সুইটির মৃ'ত্যুদণ্ড, অবশেষে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!
মক্কায় বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলাম আবদুল বাছিরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা বাবা-মা। অন্যদিকে, ভাতিজার মৃত্যুর খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাঁর ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। পরপর দুই স্বজনকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছে। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাছিরের ছেলে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তিনি বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী নন। সুইটি আক্তারকে তারা চেনেন না। আব্দুল বাছির বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’ নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পরিবার জানতে পারে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি নজরুলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও পরিবার অন্ধকারে রয়েছে। সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় থেকে আট মাস পর নজরুলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে দাবি স্বজনদের। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে পরিবার গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারে। মৃত্যুদণ্ডের আগে আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন নজরুল? নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর বাবা। আবদুল বাছিরের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে থাকার সময় নজরুল তাঁকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল কনস্যুলারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা তাঁর পক্ষে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়। পরিবারের অভিযোগ, নজরুলের গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাইছেন তাঁরা। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে নিয়ম অনুযায়ী পরিবারকে সহায়তা করা হবে। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দারাও শোক প্রকাশ করছেন। প্রতিবেশীরা নিয়মিত বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সমবেদনা জানাচ্ছেন। প্রবাসে গিয়ে পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন নজরুল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর খবরে এখন শোক, ঋণ আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের।

সৌদিতে মৃ'ত্যুদণ্ড: মসজিদে কোনো অ'নৈতিক কাজ করেনি সেই নজরুল!
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম (২৫) মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের অভাব দূর করতে ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন নজরুল। তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদ কম্পাউন্ডে এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবের আদালত নজরুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই অভিযোগে সিতি আক্তার সুইটি নামের ওই নারীরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে ওই নারীর বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা। অন্যদিকে, ভাতিজার মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ অক্টোবর রাতে মারা গেছেন তার ফুফু আবেদা বেগম। ছোটবেলা থেকে আদর-যত্নে নজরুলকে বড় করেছিলেন তিনি। নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। পরিবারের ভরণপোষণের প্রধান দায়িত্ব ছিল তার ওপর। পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগার থেকে প্রতি রোববার মাকে ফোন করতেন নজরুল। গত ১১ অক্টোবরও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। তবে সেই কথোপকথনের সময় তিনি জানতেন না, মাত্র তিন দিন পরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর মক্কায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান তার ছেলে। সেখানে মসজিদুল হারামে কাজ করতেন তিনি। সৌদি যাওয়ার ছয় মাস পর ছেলের গ্রেপ্তারের খবর পান তারা। রহিমা বেগম বলেন, “একটি মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ডিউটিতে থাকা অবস্থায় আমার ছেলেকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনতে পাই। খবর পাওয়ার পর এক মাস পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাইনি। এক মাস পর ছেলে আমাকে ফোন করে জানায়, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি এই ঘটনায় জড়িত কি না। আমার ছেলে বলেছে, সে এই কাজ করেনি।” ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর মেনে নিতে পারছেন না রহিমা বেগম। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি, এই রোববার আমার সন্তানের জীবনের শেষ রোববার হবে। আমরা মনে করেছিলাম, যেহেতু তিন বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে, হয়তো পাঁচ বছর হলে আমার ছেলেকে দেশে পাঠিয়ে দেবে।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি শেষবারের মতো আমার ছেলেকে দেখতে চাই। একবার ওর লাশটা ছুঁয়ে দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যেন আমার ছেলের লাশটা ফিরিয়ে আনে এবং আমাদের সহযোগিতা করে।” নজরুলের বন্ধু মো. মাহফুজ বলেন, কারাগার থেকে নজরুল তাকে ফোন করেছিলেন। তখন তিনি নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছিলেন। মাহফুজের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে নজরুল উপস্থিত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছিলেন। ভাষাগত জটিলতার কারণে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারেননি বলেও জানিয়েছিলেন নজরুল। নজরুলের প্রতিবেশী ও সৌদি আরবপ্রবাসী মো. আনোয়ার এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার কারণে নজরুল যথাযথ আইনি সহায়তা পাননি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে নজরুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং তার পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নজরুলকে সৌদি আরবে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সি মুছা ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা কবির বলেন, ২০২২ সালের ঘটনার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য দেওয়া কঠিন। সরকারি ছুটি থাকায় অফিস খোলার পর খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন।

‘সুইটির ফাঁসি হয়নি, এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’
সুইটির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিলো, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিস্কার করে কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই। এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় সুইটির মা জহুরা বেগম। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা বিছানায় শুয়ে রয়েছে। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাননি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’ তবে, দুইদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি। ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’


