কালবেলা · সাধারণ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
২৪/১০/২০২৬

প্লাস্টিক দূষণ রোধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের টেকসই ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচর এলাকায় আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) হাজী আব্দুল আউয়াল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় গুদারাঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘ইনটিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর কারিগরি সহায়তায় এবং রয়্যাল নরওয়েজিয়ান বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের আর্থিক সহায়তা পরিচালিত হয়।
কর্মসূচিতে বিডি ক্লিন, হাজারীবাগ বন্ধন চাইল্ড ফোরাম, হাজারীবাগ বন্ধন ইয়োথ ফোরাম, আরবান নেবারহুড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য বৃন্দ, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অংশ নেন। এতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় প্রকল্পের পরিচিতি, মূল প্রবন্ধ এবং কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় ইউনিডোর প্রতিনিধি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। আলোচনায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্পের প্রসার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরাও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলা ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাজী আব্দুল আউয়াল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের টেকসই ব্যবহার ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিজ, নিজের পরিবার, সমাজ ও এলাকা থেকেই শুরু করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করলে পরিচ্ছন্নতার এই চর্চা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডি ক্লিনের ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের জোনাল সমন্বয়ক মাহি ইসলাম পলক।
সভা শেষে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঝাউচরের গুদারাঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। বিডি ক্লিনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এ কার্যক্রমে অংশ নেন। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি এলাকার দোকানদার ও ক্রেতাদের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে প্রায় ১০২৫.৫৪ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সংগৃহীত বর্জ্য স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকারীদের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ইউনিডোর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন কামরাঙ্গীরচরের ঠোটা, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ ও সংগ্রহের লক্ষ্যে ভারী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও সঠিক স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, দায়িত্বশীল আচরণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗