ফারুক আবদুল্লা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কাশ্মীরের একাধিকবারের মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রে কংগ্রেসের শরিক। অতীতে বিজেপিরও শরিক ছিলেন। তিনি কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে রীতিমতো বিচ্ছিন্নতাবাদী-‘দেশবিরোধী’দের সুরে কথা বললেন। কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে ফারুক বললেন, “প্রতিবেশীদের জন্যই বেঁচে কাশ্মীরিরা। ভারত সরকারের যা মানসিকতা তাতে প্রতিবেশী দেশ না থাকলে কাশ্মীরিদের অস্তিত্ব থাকত না।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে বিজেপি।
বারামুল্লার এক সভায় দাঁড়িয়ে সম্প্রতি ফারুক বলেছেন, “আজ আমাদের প্রতিবেশীরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। কাশ্মীরিদের কথা বলছে। সেকারণেই জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা বেঁচে। নাহলে ভারত সরকারের মানসিকতা কাশ্মীরিদের প্রতি মোটেই ভালো নয়।” প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে বলেই কেন্দ্র কাশ্মীর নিয়ে উচ্চবাচ্চ করছে না। নাহলে ভারত সরকারের থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করাও উচিত নয়।
কাশ্মীরিদের রীতিমতো বিদ্রোহ করার উসকানি দিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান। ফারুক বলছেন, “আপনারা দিল্লির কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করেন? আপনারা কি ভাবেন দিল্লি আপনাদের সুবিচার দেবে? নিজেরা লড়াই করার মতো সাহস সঞ্চয় করুন। নাহলে আপনাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে। আপনাদের মুছে ফেলা হবে। আজ ভারত সরকার চুপাচাপ আছে শুধু বৈশ্বিক চাপের জন্য। প্রতিবেশীরা (পড়ুন পাকিস্তান) বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, বিভিন্ন ফোরামে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলছে সেকারণেই আজ কাশ্মীরবাসী বেঁচে আছে।” ফারুকের ওই মন্তব্যে প্রত্যাশিতভাবেই আপত্তি বিজেপির। কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রীতিমতো দেশবিরোধী বলছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা রবীন্দ্র রায়না বলছেন, “নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের কাশ্মীরিদের অবস্থা দেখলেই ফারুক বুঝতে পারবেন পাকিস্তান কাশ্মীরিদের কত যত্নে রেখেছে। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর আজ ভারতের অধীনে কাশ্মীর উন্নতি করছে। আজ কাশ্মীর পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেটা কারও কারও সহ্য হচ্ছে না। এই ধরনের মন্তব্যে দেশদ্রোহিতার মামলা হতে পারে।”
প্রশ্ন উঠছে, ফারুকের মতো সিনিয়র রাজনীতিবিদ এ হেন বেফাঁস কথা বলেন কীভাবে? একাধিক সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি যখন স্রেফ স্থানীয় রাজনীতির স্বার্থে এই ধরনের মন্তব্য করেন, তখন সেগুলিকে হাতিয়ার করে পাকিস্তানের মতো ভারত বিরোধী শক্তিই। সেটা কি এতদিনেও বোঝেননি কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? নাকি ইচ্ছাকৃত উপত্যকায় অশান্তি বাঁধাতে চান ফারুক।
