নয়াদিল্লি, ২৫ অক্টোবর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবিকে সামনে রেখেই আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে অংশ নিতে চলেছে কংগ্রেস। গতকাল শনিবার এমনটাই জানিয়েছেন হরিয়ানায় কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সঞ্জয় দত্ত এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং।
কংগ্রেস মারফত জানা গিয়েছে, নির্বাচনী তালিকার নির্ভরযোগ্যতা, ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। এই বিষয়গুলিতে কোনো আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। দলের দেশজুড়ে চলা ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছছে বলে দাবি কংগ্রেসের। সেই লক্ষ্যেই হরিয়ানার প্রতিটি জেলা, ব্লক, গ্রাম এবং ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত প্রচার পৌঁছে দিতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী তালিকায় কথিত অসঙ্গতির তথ্য সংগ্রহ, ভোটাধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং ১ নভেম্বরের সমাবেশে হরিয়ানা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, এসআইআরে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লি চলো কর্মসূচির পরিণতি হিসেবেই রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশকে তুলে ধরছে ইন্ডিয়া জোট। কংগ্রেসের দাবি, অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নিয়ে কথিত ভোট চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীদের ঐক্যের বার্তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সঞ্জয় দত্ত জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যোগ্য নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের যথাযথ সমাধানের স্বার্থে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো দরকার। তদন্তে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে গ্রেপ্তার সহ উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপও করা উচিত। শুক্রবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে হরিয়ানা কংগ্রেসের নেতা ও পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। ওই বৈঠকে ১ নভেম্বরের সমাবেশের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় বলে সূত্রের খবর। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয় বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য। ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এখন নজর ১ নভেম্বরের দিল্লির সমাবেশের দিকে। নির্বাচনী তালিকা নিয়ে অভিযোগ, ভোটাধিকার রক্ষা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে কংগ্রেস কতটা জনসমর্থন সংগঠিত করতে পারে, সেদিকেই থাকবে রাজনৈতিক মহলের নজর।
