Published on
:
2 min read
নিউ ইয়র্কের জেএফ কেনেডি বিমানবন্দরে (JFK Airport) প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার গভীর রাতে সঙ্গীসাথীরা ইউনূসকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়ে এক দল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে চিৎকার করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। প্রথমে ইউনূসের হাসি হাসি মুখ করে রাখার চেষ্টা করলেও একটা সময়ে বাংলাদেশের পূর্বতন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধানের অভিব্যক্তিতে বিরক্তি ও উত্তেজনা ফুটে ওঠে। এ সব দেখে সমাজমাধ্যমে নেটিজেনরা বলছেন, ‘বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসের নায়কই এখন মবের শিকার।’ কেউ লিখেছেন, ‘ক্ষমতায় থাকার সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে ‘মানুষের ন্যায্য ক্ষোভ’ আখ্যা দিয়ে মব সন্ত্রাসকে জাস্টিফাই করেছেন এই লোকটা। ‘দেখ কেমন লাগে’ আজ।’
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সমাজমাধ্যম ছেয়ে গিয়েছে জেএফ কেনেডি বিমানবন্দরে ইউনূসকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ভিডিয়োয়। সঙ্গে ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মন্তব্য। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরের অন্য যাত্রীরাও কৌতূহল নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন ঘটনাটি। নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করছেন। বিক্ষোভকারীরা চড়া গলায় প্রশ্ন করছেন, ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার?’ একাধিক কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে, ‘ইউ আর আ টেররিস্ট! ইউ আর আ থিফ!’ এক জন বলেন, ‘বাংলাদেশে হাজারেরও বেশি পুলিশ হত্যা করে এখন আমেরিকায় কী করতে?’ আর একটি কণ্ঠে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশকে ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়ে এখন আমেরিকায়?’ একটা সময়ে ইউনূসের অভিব্যক্তিতে বিরক্তি ও হতাশা ফুটে ওঠে। সেই সময়ে তাঁর সঙ্গীদের দেখা যায়, দ্রুত তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ, বাংলাদেশে হাজার হাজার মব সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টা করেননি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ইউনূস। বহু মানুষ প্রাণও হারিয়েছেন, গণপিটুনির শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছেন, হেনস্থা ও চরম অপমানিত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি থেকে বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রছাত্রী থেকে মুক্তিযুদ্ধের জনপ্রিয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ বলা নানা বয়সের মানুষ— কারও উপরে হামলা করতে ছাড়েনি ইউনূস সমর্থক মব। কখনও ‘ছাত্র জনতা’ নাম নিয়ে, কখনও বা ‘তৌহিদি জনতা’ নামে এই অত্যাচার চলেছে বলে অভিযোগ।
ইউনূসের সরকার এই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ইউনূস সমর্থকেরা জেল ভেঙে বহু জঙ্গিকে মুক্ত করে দিয়েছে, থানায় হামলা চালিয়ে কয়েকশো পুলিশকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে, অনেকের দেহ ঢাকার ফ্লাইওভার থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ইউনূস এদের সবাইকে আইনি রক্ষাকবচ পরিয়ে বিচারের আওতা থেকে রেহাই দিয়েছেন। ক্ষমতায় বসেই ইউনূস তাঁর নিজের কোম্পানি গ্রামীণ-এর ৬৬৬ কোটি টাকা কর রেহাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউনূস, সম্প্রতি সেই কর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, ‘এটি কর ফাঁকি দেওয়ার একটি উদাহরণ’।
এ বার সেই মুহাম্মদ ইউনূসই নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে মব-বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। বিরক্তিও প্রকাশ করলেন। তবে শেষ খবর, বিক্ষোভকারীরা তাঁকে স্পর্শ করেননি। ইউনূস নিরাপদেই বিমানবন্দর ছেড়েছেন।