বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের (আইবিএসসি) গবেষক ড. মো. আতিকুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে আইবিএসসি থেকে প্রথমবারের মতো কোনো গবেষক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা আতিকুর বর্তমানে ইনস্টিটিউটটিতে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের যৌথ মূল্যায়নে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন তিনি। গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণায় ধারাবাহিকতা ও সহলেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়।
ড. আতিকুর রহমানের প্রায় ১৫ বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণাজীবনে প্রথম কোয়ার্টাইলের (কিউ-১) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৫০টির বেশি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন কোয়ার্টাইলের সাময়িকীতে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৭৬টি। ২০১৮ সাল থেকে বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিতে প্রায় ২২টি গবেষণাপত্র প্রকাশে অবদান রেখেছেন তিনি, যার অধিকাংশই কিউ-১ শ্রেণির সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া, প্রথম লেখক হিসেবে তার গবেষণাপত্রের সংখ্যা ২৭টি। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ট্রেন্ডস ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স-এ প্রথম লেখক হিসেবে তার তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িকীটির বর্তমান ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ২১ দশমিক ২। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী, তার গবেষণাপত্রগুলোর মোট সাইটেশন ৩ হাজার ৮৯৪টি। তাঁর এইচ-ইনডেক্স ৩৪ এবং আই১০-ইনডেক্স ৬৫।
বর্তমানে ড. আতিকুর রহমান কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনে জৈব কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তার এ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আসার বিষয়ে ড. আতিকুর রহমান বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া দেশের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানান। তাদের সঙ্গে নিজের মতো একজন তরুণ গবেষকের নাম যুক্ত হওয়ায় আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্বও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, “দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর অনেকেই বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। তবে, দেশে ফিরে আসার মধ্যেও আলাদা প্রশান্তি রয়েছে। দেশে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও দিন শেষে দেশের জন্য কাজ করার মধ্যে তৃপ্তি খুঁজে পাই।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ব্যবহারিক ও প্রয়োগমুখী গবেষণায় আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. আতিকুর রহমান বলেন, “গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো এগিয়ে নিতে হবে। তিনি দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকজন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে এম আজহারুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম হোসাইন মণ্ডল, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মির্জা হুমায়ুন কবির রুবেল এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।
এছাড়া, তালিকায় রয়েছেন পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ড. আবু সালেহ মুছা মিয়া, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক জাকের হোসাইন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম আল-বারি, ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়ামিন হোসাইন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিতোষ বিশ্বাস, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হাসান আহমাদ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমান এবং মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।
