ককরোচ জনতা পার্টির ‘তেরঙা যাত্রা’ কর্মসূচি ঘিরে প্রায় দেড়শ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে টাইমস অব ইনডিয়া জানিয়েছে।
ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যায় মধ্য দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি) ও অন্যান্য সংগঠনের শত শত কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ করেন।
তারা সেন্ট্রাল পার্কের ভেতরের রাস্তা ধরে হেঁটে যান। ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়ে জাতীয় সংগীত গান। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করলে আবার বিভিন্ন স্থানে জড়ো হন। পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডা ও হাতাহাতিও হয়।
দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার ‘তেরঙা যাত্রা’ বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। তবে ওই কর্মসূচির আগেই বিকালে দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ।
সেইসঙ্গে অল ইনডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকেও যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করা হয়। নেহার এক্স পোস্ট থেকে বলা হয়, তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে কেউ জানে না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে সংগঠনটি।
দীপকে ও নেহা বোরাকে আটকের মধ্যেই ‘তেরঙা যাত্রা’ কর্মসূচি পালনে রাস্তায় নামে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইনডিয়া, ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইনডিয়া, অল ইনডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন ও অল ইনডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের কর্মীরা।
পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা মধ্য দিল্লিতে পৌঁছান বলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “তারা (সরকার কর্তৃপক্ষ) বলেছিল, কাউকেই কনট প্লেসে পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। আমরা এখানে পৌঁছে গেছি। আমরা শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেছি।
“আমরা দিল্লি পুলিশ ও তাদের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করেছি। আমরা জাতীয় পতাকাকে উঁচিয়ে ধরেছি। তাদের যা করার তারা করুক।”
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে সিজেপি ও অন্যান্য যুব সংগঠন। এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরেও তারা কর্মসূচি দিয়েছিল। শুক্রবার বিকালে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি দেওয়া হয়।
নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে শুক্রবার ও শনিবার সেন্ট্রাল পার্ক সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ ককরোচ নেতা দীপকের বাসায় যায়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে ওই কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ দিল্লিতে দীপকের বাসায় কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে নোটিস নিয়ে হাজির হয়। সেখান থেকেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাসায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান দীপকে। নোটিস হাতে নিয়ে পুলিশের উদ্দেশে নানা প্রশ্ন করেন।
ওই ঘটনায় ছড়ানো ভিডিওর বরাতে এনডিটিভি লিখেছে, নোটিসে দীপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে ‘তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ জনগণকে উস্কে দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি’।
