চিঠিতে ইউএনওর স্বাক্ষর রয়েছে। পাশাপাশি এর অনুলিপি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও আবেদনকারী সাংবাদিকের কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী সাংবাদিকের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁকে তথ্য দেওয়া হয়নি। সরকারি দপ্তরের লিখিত নির্দেশনার পরও তথ্য না পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তথ্য অধিকার আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য অধিকার আইন নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ না হয়ে থাকলে তার কারণ ব্যাখ্যা করা এবং আবেদনটির নিষ্পত্তির অগ্রগতি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, তথ্য সরবরাহে বিলম্বের কারণ জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস.এম. আবু মোতালেবের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন প্রতিবেদক। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরে তাঁর হিসাব সহকারী মো. মকবুল হোসেন হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে প্রতিবেদকের কাছে বিকাশ নম্বর চান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিকাশ নম্বর চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে আবারও নম্বর চান। পরে প্রতিবেদক বিকাশ নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ বিষয়ে হিসাব সহকারী মকবুল হোসেনের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশ কিছু তথ্য চাওয়ার ফাইলে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর তথ্য চাওয়ার বিষয়ে তিনি পিআইও ও তাঁর সিএকে বলে দেবেন, যাতে আবেদনকারীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
তবে ইউএনওর লিখিত নির্দেশনার পরও কেন নির্ধারিত সময়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়নি, সে বিষয়ে পিআইওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের যথাসময়ে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব। তাই আবেদনকারীকে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিলম্বের কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
The post ইউএনওর লিখিত নির্দেশ, তবু ১৯ দিনেও তথ্য দেননি পিআইও! appeared first on ভোরের চেতনা.
