সংবাদ · সাধারণ
সঙ্গীতের ৬০ বছরে খুরশীদ আলম
২৪/১০/২০২৬

বাংলাদেশের
সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি খুরশীদ আলম। গানের ভুবনে দেখতে দেখতে ছয় দশক, অর্থাৎ
৬০ বছর পার করেছেন এই গুণী শিল্পী। দীর্ঘ এই সঙ্গীতজীবনে অসংখ্য সিনেমায় গান গেয়েছেন
তিনি। তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বহু গান।খুরশীদ
আলমের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে—‘চুমকি চলেছে একা পথে’, ‘ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে’,
‘এ আকাশকে সাক্ষী রেখে’, ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’, ‘চুরি করেছো আমার মনটা’, ‘ও চোখে চোখ
পড়েছে যখনই’, ‘ও অনুপমা ও নিরূপমা’, ‘পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার’, ‘প্রেম করেছো
তুমি মন দিয়েছি আমি’, ‘চুপি চুপি বলো কেউ জেনে যাবে’, ‘যদি বউ সাজোগো’ ও ‘পাথরের পৃথিবীতে
কাঁচের হৃদয়’সহ অসংখ্য গান।গানের
ভুবনে খুরশীদ আলমের ৬০ বছরের পথচলা উপলক্ষে টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ
(টিজেএফবি) আয়োজন করে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল
ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সুরের জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী খুরশীদ আলম-এর সঙ্গীতের ৬০
বছর’ শিরোনামে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে
খুরশীদ আলমকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের গর্ব ও বরেণ্য
শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীসহ তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের বেশ কয়েকজন সঙ্গীতশিল্পী। অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে
ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।খুরশীদ
আলম প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘খুরশীদ আলম বাংলা গানে নতুন একটি ধারা সৃষ্টি
করেছিলেন। তাঁর গায়কীর মধ্যে সজীবতা ও চঞ্চলতা খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলা গানের শ্রোতারা।
খুরশীদ খুবই সহজ-সরল এবং বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। খুরশীদ ভালো থাকুক এবং আজীবন তাঁর প্রাণবন্ততা
বেঁচে থাকুক—এটাই আমার কামনা।’নিজের
৬০ বছরের সঙ্গীতজীবন প্রসঙ্গে খুরশীদ আলম বলেন, ‘দেখতে দেখতে গানের ভুবনে পথচলার ষাট
বছর চলে গেল। মাঝে মাঝে নিজেই ভাবলে বিস্মিত হই, যেন এক পলকেই চলে গেল এতটা বছর। তবে
হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমার পরম সৌভাগ্য—যখন বাংলাদেশের বাংলা গানের স্বর্ণযুগের শুরু
হয়েছিল, সেই সময়টাতে আমি গান গাওয়া শুরু করতে পেরেছিলাম। বিধায় আমার কণ্ঠে বেশ কিছু
জনপ্রিয় গান হয়েছে, যা বাংলাদেশের গানপ্রেমী শ্রোতারা এখনো শোনেন।’তিনি
আরও বলেন, ‘পথে-ঘাটে, বলতে-ফিরতে এখনো মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করেন,
তাতে সত্যিই আমি মুগ্ধ। আমি বাংলা গানের শ্রোতাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ
জানাই আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজকদের। তাঁদের উদ্যোগেই আজকের অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন
হলো।’
আয়োজকদের
প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খুরশীদ আলম বিশেষভাবে টিজেএফবির সভাপতি রেদুয়ান খন্দকারের প্রতি
ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তার আন্তরিকতা, তার বিনয় আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।
তার কারণেই আমার ষাট বছরের পথচলার বিশেষ এই আয়োজন আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রেদুয়ান
সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক, দীর্ঘজীবী হোক—যেন তার মাধ্যমে আগামীতে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের
কল্যাণ হয়।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗