অর্থনীতি ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী দাখিলের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নির্দেশনা নির্ধারণ করেছে। দেশের সীমানার ভেতরে কিংবা বাইরে করদাতার মালিকানাধীন মোট সম্পত্তির মূল্য নির্দিষ্ট সীমার বেশি হলে এই বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সাধারণত করদাতার যাবতীয় সম্পদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র সরকারের কাছে তুলে ধরতে এই বিধান রাখা হয়েছে।
প্রবর্তित নিয়ম অনুযায়ী, কোনো করদাতার দেশে অথবা বিদেশে থাকা সব ধরনের সম্পত্তির মোট ক্রয়মূল্য যদি ৫০ লাখ টাকার বেশি হয়, তবে তাকে অবশ্যই নির্ধারিত ফরমে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বর্তমান বাজারদর বিবেচনা না করে সম্পত্তিগুলো কেনার সময় যে প্রকৃত মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল, সেই হিসাবের ভিত্তিতেই মোট মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ফলে অনেক সময় বাজারমূল্য বেশি হলেও ক্রয়মূল্য ৫০ লাখ টাকার নিচে থাকলে এই বিবরণী জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়।
এই বিবরণীতে ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি কিংবা অন্যান্য মূল্যবান স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত হিসাব দিতে হয়। করদাতাদের নিজেদের স্বার্থেই এই হিসাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা উচিত যাতে পরবর্তীতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতার সৃষ্টি না হয়। সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত আয়ের উৎস উদঘাটনে এই সম্পদ বিবরণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই করদাতাদের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের সব সম্পত্তির সঠিক ক্রয়মূল্যের হিসাব প্রস্তুত করে তা আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া।
