দ্বন্দ্ব বা মন কষাকষি নয়, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার উপড়ে ফেলতে এবার একই সাইকেলে সওয়ার দুই ‘ভাই’ কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনার পর আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত খসড়াও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই কে কতগুলি আসনে লড়ছে তা প্রকাশ করা হবে। দুই শিবিরের তরফেই জানা যাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে এমন কিছু আসন থাকবে যেখানে সমাজবাদী পার্টির ব্যানারে প্রার্থী হতে পারেন কংগ্রেস নেতা। হাত শিবিরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী আসনগুলিতে এমনই পরিকল্পনা দুই দলের। আসন ভাগ করা হবে প্রভাবশালী দলের দাবির ভিত্তিতে।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সমাজবাদী পার্টির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেই নির্বাচন লড়বে তাঁরা। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট বেঁধে লড়েছিল সপা-কংগ্রেস। সেই নির্বাচনে ৪০৩ আসনের মধ্যে সপা পড়েছিল ২৯৮টি আসনে, এবং কংগ্রেস ১০৫ আসনে। যদিও ২০২২ সালে কংগ্রেস জোট থেকে বেরিয়ে আসে সপা। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্যের পর আসন্ন নির্বাচনে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না দুই শিবির। লোকসভা নির্বাচনের মতো সঠিক আসন বণ্টনই বিধানসভায় সাফল্যের প্রধান কারিগত হতে পারে বলে মনে করছে দুই শিবির।
আসন্ন নির্বাচনে এমন কিছু আসন থাকবে যেখানে সমাজবাদী পার্টির ব্যানারে প্রার্থী হতে পারেন কংগ্রেস নেতা।
সমাজবাদী পার্টির তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আসনগুলোর সঙ্গে কোনও আপস করবে না তাঁরা। ২০২২ ও ২০২৪ সালে যে আসনগুলিতে সপা জয় পেয়েছিল তার কোনও আসন ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যেই এইসব আসনগুলিতে প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে সপা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। লোকসভার ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিপুল সাফল্যের পর এবার অনেকখানি আত্মবিশ্বাসী সপা। বিধানসভা নির্বাচনে কোনও ভুল করতে একেবারেই রাজি নন অখিলেশ।
সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেসের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে শীঘ্রই দিল্লিতে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের পর দুই শিবিরের তরফে আসন ভাগাভাগির সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।
