Published on
:
1 min read
এই সময়, পুরুলিয়া: সরকারি হাসপাতালের ভিতরেই লিফ্টের শ্যাফ্টে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক। ও দিকে তখন সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নিয়ে ওই হাসপাতালেই ভর্তি তাঁর স্ত্রী। রবিবার সকালে এই ঘটনার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাস।
ঘটনার জেরে হাসপাতালের লিফ্ট বন্ধ থাকে বেশ কিছুক্ষণের জন্য। লিফ্টের শ্যাফ্টে (লিফ্ট ওঠা–নামার ফাঁকা জায়গা) ঝাঁপ দেওয়ায় ওই যুবক গুরুতর আহত হন। অবিনাশ সিং সর্দার নামে ওই যুবককে উদ্ধার করার জন্য দমকলকে ডাকতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উদ্ধার করে তাঁকে এ দিনই চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে রাঁচিতে।
জানা গিয়েছে, অবিনাশ পুরুলিয়ার আড়শা এলাকার গুঁদলিগোড়া গ্রামের বাসিন্দা। ওই যুবকের স্ত্রী সম্প্রতি এই হাসপাতালেই কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। স্ত্রী হাসপাতালে থাকার জন্য ওই যুবকও হাসপাতালেই ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন অবিনাশ।
এ দিন সকালে প্রথমে হাসপাতাল চত্বরে ইট দিয়ে নিজের মাথা ফাটিয়ে জখম হন ওই যুবক। তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এর মধ্যেই কর্মীদের নজর এড়িয়ে তিনি চারতলায় উঠে যান এবং লিফটের শ্যাফ্টের গেট খুলে ফাঁকা জায়গায় ঝাঁপ দেন। বিকট শব্দে শ্যাফ্টের মধ্যে নীচে আছড়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে গোটা হাসপাতাল চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে দমকলকর্মীরা শ্যাফ্টের ভিতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়, পরে পাঠানো হয় রাঁচিতে। তবে সবার নজর এড়িয়ে একজন কী ভাবে হাসপাতালের চারতলায় লিফ্টের শ্যাফ্টের গেট খুলে ফেললেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী। ওই যুবকের স্ত্রীকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।