মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের পেটানো, সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, এরপর বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো রাজনৈতিক নেতার আছে?
গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায় মাদকবিরোধী এ অভিযানের ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বিএনপি নেতা ফারুক। একপর্যায়ে দুই যুবককে চড়-থাপ্পড় মারতে এবং কয়েকজনকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পেটাতে দেখা যায়, যা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সেই অভিযানে অংশ দেওয়া মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদ রহমান তুষারের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও অভিভাবকদের অনুরোধে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক মনিরুজ্জামান ফারুকের নিজের বক্তব্য। আটক ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে কী করব, তারা তো ছেড়ে দেয়। তাই উত্তমমাধ্যম দিয়ে আমরাও ছেড়ে দিয়েছি।’
শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতার এ বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে কাউকে মারধরের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
কোতয়ালি থানার আওতাধীন আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) এসআই রেজাউল ইসলাম রেজা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খানও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, মাদক নির্মূলে নেতাকর্মীরা পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু অভিযান পরিচালনা করবে প্রশাসন।