বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলার নেপথ্যে ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা। মুম্বাই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
‘ডেড লেটার বক্স’ আসলে এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় যাওয়ার আগেই কোনো জিনিস সেখানে রেখে দেওয়া হয়। পরে অন্য আরেক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে সেটি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। এখানে যিনি জিনিসটি রেখে যান এবং যিনি সংগ্রহ করেন, তাদের সরাসরি দেখা হওয়ার প্রয়োজন হয় না। সেই বুদ্ধি অ্যাপ্লাই করা হয়েছিল টাইগার শ্রফের কিলিং মিশনে।
এতে যুক্ত অপরাধীদের অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্কের সঙ্গে ছিল নিবিড় যোগাযোগ। একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করে বহনকারীরা। সেই অস্ত্র পৌঁছে যায় ‘ডেড লেটার বক্স’-এ। সেখান থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে কিলাররা। পুরো চক্রের যোগাযোগ বজায় ছিল এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে।
পুলিশের দাবি, এ মামলায় কুণাল ও সুমিত নামে দুই অভিযুক্ত অমৃতসরে গিয়ে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল। তাদের কাছে আগে থেকেই সংগ্রহস্থলের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। রাধা ও ববিতা নামে দুই নারীকে এ অস্ত্র বহনকাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কুণাল ও অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তির মধ্যে এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ চলে। অস্ত্র সংগ্রহ এবং তা মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই অ্যাপের মাধ্যমেই। অস্ত্র পরিবহণের ব্যবস্থা করার জন্য কুণালকে ৭০-৮০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ থেকে দুই নারীকে প্রায় ১০-১২ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোটা ঘটনাটিকে একটি সংগঠিত অপরাধ চক্রের সম্ভাব্য অপারেশন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রোববার (১৮ অক্টোবর) পুষ্প নার্সি পার্কের কাছে গুলিতে জখম হন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। ফুটবল খেলা শেষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছিলেন তিনি। এমন সময় হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালায় এবং এরপর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।