Published on
:
2 min read
এই সময়, শ্রীরামপুর ও উলুবেড়িয়া: দুর্গাপুজোর আগে থেকেই কালোবাজারি ও মজুতদারি বন্ধে সরকারের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ জেলার পাইকারি ও খুচরো বাজারে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু তাতেও বাজারদরে অবস্থার হেরফের ঘটেনি। তাই, দুর্গাপুজো মিটে গেলেও, লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে ফল ও ফুল মালা থেকে মিষ্টির দোকানে তৈরি নারকেল ও তিলের নাড়ুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হতেই ছেঁকা লেগেছে সাধারণ মানুষের। শনিবার সকাল থেকেই খুচরো বাজারে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি ভিড় ছিল। কিন্তু ফুলমালা ও ফলের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই পুজোর বাজারে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ আবার নিয়ম রক্ষার জন্য নামমাত্র পুজো দিয়েছেন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় অন্যতম উপকরণ নারকেল নাড়ু। বাজারে নারকেল কিনতে গিয়ে দামের চোটে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের। ৬০ টাকা করে এক একেকটি নারকেল বিকিয়েছে। কাঁঠালি কলার ডজন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আপেল ১৫০ টাকা কেজি, আঙুর ২৫০, শশা ৮০ টাকা কেজি ও আম ১৫০ টাকা দরে বিকিয়েছে। ফল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে ফলের দাম বেশি বলেই খুচরো বাজারে ফলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চাহিদার সঙ্গে জোগানের ফারাকের কারণেই ফলের দাম আগুন। ফলের পাশাপাশি আকন্দ, নীলকণ্ঠ, রজনীগন্ধা ও গাঁদাফুলের মালার দামও ছিল অনেকটা বেশি। আকন্দ ফুল ও নীলকণ্ঠ ফুলের মালা বিকিয়েছে ১০ টাকা করে। রজনীগন্ধার ছোট মালা ৫০ টাকা, বড় মালা ১৫০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। মধ্যবিত্তদের একটাই কথা, ‘ফুল ও ফলের আকাশছোঁয়া দামে মনের মতো ফলমূল কিনতে পারিনি। নামমাত্র উপকরণ দিয়ে পুজো করব।’ ফুল ব্যবসায়ী প্রহ্লাদ দাস বলেন, ‘গরম ও আচমকা বৃষ্টির কারণে ফুলের ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণেই ফুলের বাজার চড়া। আনাজের দোকানেও পাল্লা দিয়ে দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। পটল ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকায় একটি, টমেটো ৭০ টাকা, কুমড়ো ৫০ টাকা, শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিকিয়েছে।
ছবিটা কিছুমাত্র আলাদা নয় হাওড়া গ্রামীণেও। দামবৃদ্ধির কারণ ভিন্ন দর্শালেও, দাম যে বেড়েছে, সে বিষয়ে ক্রেতা–বিক্রেতা সবাই মোটামুটি একমত। হাওড়া গ্রামীণ জেলার বাগনান, উলুবেড়িয়া, বীরশিবপুর–সহ কয়েকটি ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেল, ফলের দাম আগের বছরের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাগনানের ফল ব্যবসায়ী শেখ নবাব জানান, ফল ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা, লক্ষ্মীপুজোর সময়ে অন্যান্য বছর যে সংখ্যক খদ্দের থাকে, এ বছর সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কম, সেটাও দাম বাড়ার একটা বড় কারণ বলে মনে হচ্ছে। এই বছর সেই খদ্দের দেখা যাচ্ছে না। বীরশিবপুরের বাজারে এসেছিলেন নরোত্তম দত্ত। বয়সে প্রবীণ এই ব্যক্তি জানান, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয়ে থাকে। তাঁর মতে, গত বছরের তুলনায় ফলের দাম এবার অনেকটাই বেড়েছে।
