রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে লাস্যময়ী অবতারে ধরা দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছিলেন কৃতী শ্যানন। যে প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসার ৪২ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে ওঠে আসমুদ্রহিমাচলে। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় ওঠে সোশাল পাড়াতেও। এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়, নেটভুবনের সিংহভাগ মহিলারাই কৃতীকে পোশাকবিধির পাঠ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে যখন অহরহ নারীদের ধর্ষণ, গার্হস্থ্য হিংসার খবর প্রকাশ্যে আসে, তখন কেন চুপ সেসব মহিলা নীতিপুলিশেরা? সাম্প্রতিক অতীতে এমন প্রশ্নও তুলেছেন কৃতী শ্যানন। এবার করিনা কাপুর খানের শো ‘হোয়াট ওম্যান’-এ এসে পোশাক বিতর্ক নিয়ে প্রতিবাদী ‘ককটেল ২’ অভিনেত্রী।
বেবোর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অভিনেত্রী বলেন, “ট্রোলিংয়ে আমি বিশেষ পাত্তা দিই না। স্বভাবগতভাবেই আমি বেশ স্পষ্টবক্তা। সাধারণত আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দিই না। কিন্তু সম্প্রতি রাখির বিজ্ঞাপনে আমার ব্লাউজ যেভাবে জাতীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল! ভাবতেই পারিনি, আমার ব্লাউজ নিয়ে টেলিভিশনে আলোচনা হবে। ছয়জন মানুষ বসে তা নিয়ে কথা বলবেন! বিষয়টি জাতীয়স্তরের খবরে পরিণত হবে।”
এই মর্মে কৃতীর সংযোজন, “আমি সাধারণত এসব নিয়ে মুখ খুলি না। কিন্তু এবার মনে হয়েছিল আমাকে একটু প্রতিবাদী হতে হবে। বিষয়টা শুধু আমার নিজের সমস্যা বলে নয় বরং মহিলাদের যেভাবে ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় তার জন্যও প্রতিবাদ করা জরুরি। একজন মহিলা কী করবেন বা কী পরবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর নিজের। তিনি কী পরছেন, তা নিয়ে অন্যদের এত মাথাব্যথা কেন? কারও কোনও পোশাক পছন্দ হতে পারে আবার নাও হতে পারে। সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু তাই বলে কারও সমালোচনা করা আদৌ ঠিক?”
সোশাল মিডিয়ায় কমেন্ট বক্সের মন্তব্য় নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা নেই কৃতীর। অভিনেত্রীর কথায়, “মানুষ সংস্কৃতির কথা বলে, আবার আমার বাবা-মা ও বোনের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টেও কুরুচিকর মন্তব্য করে। আমার মনে হয়, মহিলাদের নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে প্রতিবাদী হওয়া উচিত। কারণ, এই মানুষগুলোকে কে অধিকার দিয়েছে যা খুশি তাই বলার? আমরাও মানুষ, আমাদেরও গুরুত্ব রয়েছে।”
