২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায় শেষ হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণা। আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোট। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ছুটছেন প্রার্থীরা। সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। অন্যদিকে প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত প্রশাসন।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সদর উপজেলা চিলারং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা করেন ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমীন। এ সময় তিনি ভোটারদের কাছে কৃষকের সার সংকট সমাধান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দেন।
অপরদিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে উঠান বৈঠকসহ পথসভা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনিও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে আগামী ২৯ অক্টোবর নির্বাচন ঘিরে জেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ জন কাজ করবেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। এর মধ্যে দুই হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২১ প্লাটুন বিজিবি, দুই হাজার ৪০৫ জন আনসার, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিনজন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৫ জন কাজ করবেন। এ ছাড়া মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯০টি, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক ২৫ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক চারজন এবং দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচনি মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিগত নির্বাচনের তুলনায় তিন গুণ জনবল মাঠপর্যায়ে কাজ করবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি—একটি অবাধ-সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে ভোটার রয়েছে পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬৩ জন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্যদের ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আজ রোববার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ব্যতীত অন্যকোন ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব হতে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।’
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
