নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানো, শরীরকে সক্রিয় রাখা এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপায়। তবে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা নিয়ে অনেক নারীর মনেই প্রশ্ন দেখা দেয়। প্রতিদিন দৌড়ানো বা ভারী ওজন তোলার অভ্যাস কি গর্ভধারণের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যায়াম নিজে সাধারণত সমস্যা নয়; বরং অতিরিক্ত পরিশ্রম, অপর্যাপ্ত পুষ্টি ও ঘুমের অভাব প্রজননস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেসজ্ঞরা বলেন, ব্যায়ামের তীব্রতা, খাবারের পরিমাণ ও ঘুমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, শরীরের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অনুশীলন করলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে।
অপর্যাপ্ত খাবার ও অতিরিক্ত ব্যায়ামের ঝুঁকি
প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খেয়ে কঠোর ব্যায়াম করলে শরীরে শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে, শরীর যত ক্যালরি খরচ করছে, তার তুলনায় অনেক কম ক্যালরি গ্রহণ করলে মাসিক অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে, এমনকি বন্ধও হতে পারে। নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন না হলে গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শুধু কতক্ষণ ব্যায়াম করা হচ্ছে, তা নয়; ব্যায়ামের বাইরেও শরীরের অবস্থা খেয়াল রাখতে হবে। সব সময় ক্লান্ত লাগছে কি না, অনুশীলনের পর শরীর যথেষ্ট বিশ্রাম পাচ্ছে কি না এবং খাবার থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি মিলছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় কি ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। বরং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা গর্ভধারণের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে। সাধারণ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, সপ্তাহে প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার কার্ডিও ব্যায়াম এবং দুই দিন শক্তিবর্ধক অনুশীলন করা যেতে পারে। হাঁটা, সাঁতার, সাইকেল চালানো ও ভারোত্তোলনও রুটিনে রাখা সম্ভব।
তবে ব্যায়ামের পর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিলে অনুশীলনের মাত্রা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
খাবার, ঘুম ও পিসিওএসের ভূমিকা
শরীরের শক্তির জন্য কার্বোহাইড্রেট, পেশি পুনর্গঠনে প্রোটিন এবং হরমোন তৈরিতে স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা চলাকালে কঠোর ডায়েট বা দ্রুত ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) থাকলে ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণে, হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলেই ডিম্বস্ফোটন স্বাভাবিক হবে, এমন নয়। মাসিক অনিয়মিত থাকলে বা গর্ভধারণে দেরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবশেষে, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা মানেই ব্যায়াম ছেড়ে দেওয়া নয়। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং নিয়মিত বিশ্রামের সমন্বয়ই সুস্থ প্রজননস্বাস্থ্য বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস