হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে বিরোধীদলীয় নেতা
কুরআনের শিক্ষায় সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান
কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ সমাজ বাস্তবায়নে হাফেজে কুরআনদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, যাদের বুকে পবিত্র কুরআন ধারণ করার শক্তি মহান আল্লাহ দিয়েছেন, তারা যেন কুরআনের শিক্ষা সমাজে বাস্তবায়নের জন্য নেতৃত্ব দিতে পারেন। আমরা আপনাদের মেহরাব থেকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চাই।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে পাঁচ মাসব্যাপী ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের বিরল আয়োজন আগে কোথাও হয়নি। এ আয়োজন বাস্তবায়নে নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছোটখাটো মতভিন্নতা দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে সমাজ গঠনে কাজ করতে হবে।
প্রতিযোগিতায় ১০ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী ছোট্ট প্রতিযোগী রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াতের আমীর ঘোষণা করেন, তার বাবা, মা ও উস্তাদকে তার পক্ষ থেকে ওমরাহ করানো হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তরের জনপদের জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে আল্লাহ যেন কবুল করেন এবং তাকে সেই তাওফিক দান করেন, সে দোয়াও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা পুরস্কার দেওয়ার আর নেওয়ার জন্য আজ এখানে আসিনি। আমরা এসেছি কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে এবং সমাজে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে।
তিনি বলেন, হাফেজে কুরআনরা কুরআনকে ধারণ করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাঈ ইলাল্লাহর দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই তাদের প্রত্যাশা। মতামতের ক্ষেত্রে বিভেদ থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই এক ও অভিন্ন। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কুরআন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, পাঁচ মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় আট শতাধিক কওমি ও আলিয়া মাদরাসার লক্ষাধিক হাফেজ অংশগ্রহণ করেছেন। কওমি, আলিয়া কিংবা অন্য কোনো নেসাব ও পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠা করে একটি আদর্শভিত্তিক, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। পবিত্র আল-কুরআন সমগ্র মুসলিম জাতির জীবনবিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার হাফেজে কুরআন তৈরি হচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কুরআনকে যারা সংরক্ষণ করেন, তাদের নিয়ে দীর্ঘ পাঁচ মাসব্যাপী কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ আয়োজন নতুন একটি সূচনা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত কেউ আল-কুরআনকে মুছে ফেলতে পারবে না। এটি মহান আল্লাহর বাণী এবং তিনিই এর সংরক্ষক। কুরআনের শিক্ষার আলোকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। কুরআনের শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য হাফেজদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যতে আলেমরা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট আলেম মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের আয়োজন যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। দেশে হাফেজ ও আলেমদের কদর বাড়ছে। এ আয়োজনের সার্থকতা তখনই আসবে, যখন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব, জাতীয় মসজিদের নেতৃত্বসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বে হাফেজ ও আলেমরা দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা বলেন, এ ঐতিহাসিক কুরআনের সমাবেশ থেকে তারা আগামী দিনে বাংলাদেশকে কুরআনের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রে কুরআনের জীবনবিধান প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা যায়নুল আবেদিন বলেন, যাঁরা কুরআনকে জানেন, কুরআনকে মানেন এবং কুরআনের সব হুকুম-আহকাম মেনে চলেন, তাদের সম্মানিত করতে হবে। সমাজকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে হবে।
প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক ও হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক প্রতিযোগিতার আয়োজন হলেও পাঁচ মাসব্যাপী এ ধরনের কুরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপিসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও অতিথিরা। বক্তারা পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন, হাফেজে কুরআনদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কুরআনভিত্তিক নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ঢাকার ৮০০টি মাদরাসার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআনের ১০, ২০ ও ৩০ পারা এই তিনটি পৃথক বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীসহ মোট ২৪৩ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী নির্বাচিত করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
বিজয়ীদের মধ্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল, অর্ধকোটি টাকা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নগর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং হাফেজ খালিদ সাইফুল্লাহ বকসির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জামায়াত নেতা শামীম আহসানকে দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে ডা. শফিকুর রহমান
রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আমি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা শাখার সাবেক সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত শামীম আহসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি। পরে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শামীম আহসানের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে মানুষকে নাজেহাল করেছেন। এর আগেও আরেকজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে হামলা, দোকানপাটে লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পরপরই আমি সরকারদলীয় মাননীয় চিফ হুইপকে ফোন করেছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি। আমি আশা করি, সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা চাই না, কেউ ফুলের পাপড়ি দিয়েও কাউকে আঘাত করুক। রাজনীতি হবে রাজনীতির ভাষায়, সন্ত্রাসের ভাষায় নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি রয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য বা অভিযোগ থাকলে তা উপস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। আমি সবাইকে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সমাজে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় বেড়েছে। বর্তমান সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের পরিণতিও আগের সরকারের মতো হতে পারে।
গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে টঙ্গীর শহীদ আব্দুল মালেক মিলনায়তনে ২০২৬ সালের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বশীল ড. খলিলুর রহমান মাদানী, গাজীপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আবুল হাশেম খান এবং জেলা আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম।
=
এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আমেনা বেগম, মহানগর নায়েবে আমীর মোঃ খায়রুল হাসান, মোঃ হোসেন আলী,মহানগর সেক্রেটারি এ এস এম ফারুক, সহকারী সেক্রেটারি আফজাল হোসেন, মহানগর কর্মপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল কোরআন পেশ করেন মাওলানা আব্দুল হালিম। দেশীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীরা ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনের আগে একটি দল বলেছিল, নির্বাচন হয়ে গেলে দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তুবর্তমানে সমস্যা আরও বেড়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং বিচার ও শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অবসান ঘটবে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। আগের সরকারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে এর রাজনৈতিক পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে জামায়াত আমীর বলেন, জামায়াত ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ছিল শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমান সময়ে বৈষম্যের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, লুটপাট এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণ এমন পরিবর্তন প্রত্যাশা করেনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকের মনে হচ্ছে, ‘একলুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত হয়েছে।’ তাঁর দাবি, জনগণ নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ চায়। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
রুকনদের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, ইসলামী আদর্শ বুকে ধারণ করে নিজেদের জীবন গঠন করতে হবে। নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং ভালো ব্যবহার করতে হবে। সমাজের মানুষকে অবজ্ঞা না করে তাদের সম্মান অর্জনের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু শক্তি প্রয়োগ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি; মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তম চরিত্র, আচরণ ও আদর্শ মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। তাই রুকনদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক আচরণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের শিক্ষা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর দাসত্ব করাই মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য। সুদকে ইসলামে হারাম উল্লেখ করে তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ধর্মীয় বিধান মেনে চলার আহ্বান জানান। মৃত্যু যে কোনো সময় আসতে পারে-এ কথা স্মরণ রেখে উত্তম আমলের মাধ্যমে জীবন শেষ করার প্রস্তুতি রাখতেও তিনি রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান
গাজীপুরের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে শিল্পমালিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। তাই স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের সমর্থন অর্জনে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী হতে নেতা-কর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতে ইসলামীকে এগিয়ে আসতে হবে। বাধা এলে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে তা মোকাবিলার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে আল-কোরআনের আদর্শ অনুসারে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যয় উঠে আসে।
পূর্ণ নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা বিরোধীদলীয় নেতার
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বস্তির সঙ্গে উদযাপিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এ দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ রীতিতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ আমাদের ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই প্রিয় বাংলাদেশ। এখানে অনেক আগে থেকেই আমরা সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ রীতিতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করে আসছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় এ সম্প্রদায়ের সব মানুষ পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের উৎসব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের সুন্দর অতীত ঐতিহ্যের আলোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবারও যেন পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বস্তির সঙ্গে তাদের পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও জনবান্ধব সংগঠন হিসেবে নিজস্ব অবস্থান থেকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আমাদের এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস। তারা নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখবেন এবং সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন।
