সুপ্রিম কোর্টIstock
Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: রাজধানীতে প্রতিবাদ ধর্না কর্মসূচি ‘কভার’ করার সময়ে এক মহিলা সাংবাদিকের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের কর্মরত এসিপি–র বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশ সেই মহিলা সাংবাদিকের লিখিত অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে বলেও দাবি। শুধু তাই নয়, ওই এসিপি পাল্টা জাত তুলে অপমানের অভিযোগ তুলে এফআইআর করেছেন ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এই আবহে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ সংশ্লিষ্ট মহিলা সাংবাদিককে ‘সুরক্ষা কবচ’ দিল সুপ্রিম কোর্ট৷
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ভাবেই এখন এই মহিলা সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যাবে না বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না৷ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, ‘এটা অত্যন্ত সিরিয়াস অভিযোগ৷ ৮টি অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে আবেদনে৷ মি: মেহতা, আপনাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে দ্রুত এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে৷’ এই মর্মেই নোটিস জারি করে দিল্লি পুলিশের অবস্থান জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত৷ সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করেন, ওই সাংবাদিক যদি তদন্তে সহযোগিতা করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন, তবে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করবে না।
সংশ্লিষ্ট মহিলা সাংবাদিকের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, ‘ইজ়রায়েল, প্যালেস্তাইনে মহিলা সাংবাদিকরা কভার করছেন, সেখানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না, কিন্তু এখানে মহিলা সাংবাদিকরা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। এই ধরনের প্রতিবাদ কভার করার ক্ষেত্রে পিআইবি কার্ড (ভারত সরকারের মান্যতা সম্পন্ন সাংবাদিকের সচিত্র পরিচয়পত্র) দেখতে চাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এ বিষয়ে কোনও ন্যাশনাল প্রোটোকল নেই।’ তা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁরা সব দিক খতিয়ে দেখে একটি গাইডলাইন তৈরি করবেন৷ মহিলা সাংবাদিকের শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত এই গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংকে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, তিনি যেন দু’টি পৃথক খামে নির্দিষ্ট তথ্য জমা দেন। একটি খামে থাকবে ‘হেনস্থা’র শিকার হওয়া মহিলা সাংবাদিকদের নাম এবং অন্যটিতে অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতি ও অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারদের একটি সম্ভাব্য প্যানেল, যাঁদের মধ্য থেকে এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তাত্পর্যপূর্ণ হল, এই মামলার শুনানিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’–এর প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন তুষার মেহতা৷ তাঁর বক্তব্য, ‘এখন অনেকেই নিজেদের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বলছেন৷ হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁরা যেখানে সেখানে ঢুকে পড়ছেন৷ ছবি–ভিডিয়ো তুলছেন৷ বক্তব্য রাখছেন৷ তার পরে সামাজিক মাধ্যমে রিল আপলোড করা হচ্ছে৷ প্রকৃত স্বাধীন সাংবাদিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার রিল-প্রস্তুতকারকদের মধ্যে ফারাক করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এই মামলার শুনানিতেই আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ তোলেন, সুপ্রিম কোর্ট পরিসরে ঢুকে বিরোধী নেতাদের মিছিল কভার করা অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সাংবাদিককে ধাক্কা মেরেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী৷ ভাটিয়ার কথায়, ‘ওই সাংবাদিককে এত জোরে ধাক্কা দেওয়া হয়, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে৷ দিল্লিতে কর্মরত মহিলা পুলিশ কর্মীদেরও যৌন হেনস্থা করা হয়েছে৷ প্রতিবাদের নামে মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে৷’ আইনজীবী ভাটিয়ার অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁরা মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করবেন না৷ এই বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের হলে বিচার করা হতে পারে৷ প্রধান বিচারপতির কথা মেনে মামলা দায়ের করেন ভাটিয়া৷