গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আল জাজিরার প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস আল-শরিফের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে তাঁর প্রতিনিধি দলের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অবরুদ্ধ উত্তর গাজা থেকে প্রচারিত তাঁর যুদ্ধকালীন সংবাদ, ধ্বংসলীলা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয়ের বিশাল সংগৃহীত ডিজিটাল আর্কাইভটি রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাঁর প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য অনুসারীদের বিকল্প একটি ব্যাকআপ অ্যাকাউন্টের দিকে ইঙ্গিত করে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাহসিকতার সাথে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা এই তরুণ সংবাদকর্মী ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে সাংবাদিকদের তাঁবুতে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে নিহত হন।
মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগেও গাজায় আকাশপথে হামলাই ছিল তাঁর শেষ বার্তা, যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে বোমাবর্ষণ থামছে না এবং বিগত দুই ঘণ্টায় শহরটিতে হামলা আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। মৃত্যুর পর তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজটি গাজা যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসের অন্যতম জীবন্ত প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
অ্যাকাউন্টটি বন্ধের কারণ নিয়ে মেটার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা থেকেও বিরত রয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনকেন্দ্রিক সংবাদ সরিয়ে দেওয়া, অ্যাকাউন্ট সীমিত করা এবং ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠরোধের ক্ষেত্রে মেটার বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সংঘাতে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের স্মৃতি ও ডিজিটাল প্রামাণ্য দলিল কীভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং গাজার যুদ্ধের ইতিহাস সাধারণ মানুষের জন্য কতটা সুগম থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
