ব্রাজ়িল বাড়িতে শোকের ছায়ানিজস্ব চিত্র
Published on
:
2 min read
ছাদ থেকে দেওয়াল — পুরোটাই হলুদ-সবুজ রঙে মোড়া। যেন জার্সি গায়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা আস্ত বাড়ি। বাঁকুড়ার রবীন্দ্র সরণীর বাসিন্দারা একে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ নামেই চেনে। বাড়ির প্রাণপুরুষ দুই ভাই রঞ্জিতকুমার চৌধুরী (৭৩) ও বিশ্বনাথ চৌধুরী (৫৮)। শনিবার ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাঁকুড়ার বাড়ি থেকে গাড়িতে ওন্দার ছাগুলিয়া গ্রামে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন চার জন। গাড়িতে ছিলেন রঞ্জিতকুমার, তাঁর স্ত্রী, ভাই বিশ্বনাথ এবং চালক। সূত্রের খবর, তালড্যাংরার ফকিরডাঙায় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রঞ্জিতকুমারের।
বিশ্বনাথ, তাঁর বৌদি ও গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে বিশ্বনাথকে স্থানান্তরিত করা হয় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই গভীর রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। রঞ্জিতের স্ত্রী এবং চালকের চিকিৎসা চলছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০০৬-এ রবীন্দ্রসরণীতে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন দুই ভাই। সেই বাড়ির ছাদে বিশাল ফুটবল, দেওয়ালে ব্রাজিলের জার্সির রং—সবই ফুটবলের প্রতি টানে। বিশ্বনাথ নিজের উদ্যোগে ব্রাজ়িল ফ্যান ক্লাবও তৈরি করেছিলেন। সমর্থকদের হাতে ব্রাজিলের জার্সি তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রিয় দলের সমর্থনে রাস্তায় নামা—সবেতেই থাকতেন পুরোভাগে।
কিন্তু ফুটবলের বাইরেও ছিল তাঁর আর এক পরিচয়। তিনি ছিলেন পরোপকারী। এলাকার গরিব ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই অভ্যাসই তাঁকে প্রতিবেশীদের কাছে আপন করে তুলেছিল। বিশ্বনাথের প্রতিবেশী তথা বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সুদীপ চক্রবর্তী শোকস্তব্ধ। তিনি বলেন, ‘ক্রীড়া জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। বাঁকুড়া এক নক্ষত্রকে হারাল।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা— দুই ভাইকে মনে রাখবে সবাই। বিশ্বকাপ এলে হয়তো আবার কোথাও ব্রাজিলের পতাকা উড়বে, রাস্তায় শোনা যাবে সমর্থকদের উল্লাস। কিন্তু রবীন্দ্র সরণীর ‘ব্রাজিল বাড়ি’ গ্রাস করে নেবে একরাশ শূন্যতা।
