The Sangbad · সাধারণ
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: সুইটিকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নজরুলের বাবার
২০/১০/২০২৬

সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দুজনকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলেও নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির জানিয়েছেন, তার ছেলে বিয়েই করেননি এবং সুইটিকে তারা চেনেন না।সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। অন্যদিকে সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে।নজরুল ও সুইটির মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে আব্দুল বাছির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত।’মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল আব্দুল বাছিরের। ফোনে নজরুল জানান, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তবে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন, তা বিস্তারিত জানাননি। এর কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের সূত্রে আব্দুল বাছির জানতে পারেন তার ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার এক মাস পর মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান নজরুল। তবে সাত-আট মাস পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে নজরুল জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। কিন্তু কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছু জানাননি তিনি।নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে আমার ছেলে কারাগারে ছিল। গত রোববার সে আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছিল, সে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এটাই ছিল তার সঙ্গে আমার শেষ কথা। এরপর গত বুধবার জানতে পারি, আমার ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’আব্দুল বাছিরের অভিযোগ, কারাগারে থাকার সময় তিনি ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না। কিন্তু নজরুল জানিয়েছিলেন, কেউ যোগাযোগ করেননি।এদিকে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সুইটির পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাননি তার পরিবারের সদস্যরা। মেয়ের মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা-মা।মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডেকে এনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটি আক্তারের ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।সুইটি আক্তারের বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি জানিয়ে দাবি করেছেন, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এ জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো তথ্য আসেনি।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗