দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে আছে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরটি। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় নষ্ট হয়েছে পুকুরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য। অবশেষে পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সেই কাজে স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দিতে নিজেই কোমর সমান পানিতে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সহযোগিতায় পুকুরটিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও ফরিদা সুলতানা বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে পুকুরের কোমর সমান পানিতে নেমে কচুরিপানা টেনে তুলছেন।
অভিযানের মূল লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরে পুকুরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানা অপসারণের পাশাপাশি এর আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করা। এতে বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জলাশয় ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা উপজেলা পরিষদের পুকুরটি পরিষ্কারের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এক দিনের অভিযানেই যেন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শেষ না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পুকুরটির সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুরটি পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে এর উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে পুকুরটির সৌন্দর্যবর্ধনে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পুকুরটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ রয়েছে।
আরিফ হোসেন/এমটিআই
