‘সত্যের সঙ্গে বসবাস করব, মিথ্যার সঙ্গে নয়’- এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দৈনিক খবরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।
তিনি বলেছেন, পত্রিকা প্রকাশের পর থেকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বৈরী সময় এবং আর্থিকসংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হয়নি। সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে খবরের কাগজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে দৈনিক খবরের কাগজের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, উপ-সম্পাদক ড. এমদাদ হাসনায়েন, কপি এডিটর মলয় পাঁড়ে, সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা, বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান, সিটি এডিটর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, হেড অব আর্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ নিয়াজ চৌধুরী তুলি, ক্রিড়া সম্পাদক মহিউদ্দিন পলাশ, ফিচার সম্পাদক খালেদ আহমেদ, অনলাইন ইনচার্জ অমিয় দত্ত ভৌমিক, ডিজিটাল প্রধান কাজী গোলাম রব্বানী, বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী, মার্কেটিং বিভাগের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হারুনর রশিদ, আইটি প্রধান প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব, মানবসম্পদ ও প্রশাসন প্রধান মিন্টু ভূষণ রায়, হিসাব ও অর্থ প্রধান খন্দকার আজাদ, সার্কুলেশন প্রধান মোজাম্মেল হোসেন শাহীন, সহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্যে মোস্তফা কামাল প্রথমেই আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ সহকর্মী এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে গঠিত ‘খবরের কাগজ’ পরিবারকে স্মরণ করেন।
এই পরিবার সুখ-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায় একসঙ্গে আছে এবং একসঙ্গে দীর্ঘ পথ চলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনেক সংকট পেরিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সংকট উত্তরণের কাছাকাছি চলে এসেছি এবং সামনে অবশ্যই আলো রয়েছে। আমাদের এই ৩০০ কর্মী, একেবারে পিয়ন থেকে সম্পাদক পর্যন্ত সবাই কাজ করছেন। একটি পত্রিকা কোনো একক সম্পাদকের মাধ্যমে চলে না, এর জন্য একটি ভালো টিম প্রয়োজন। অনলাইন, ডিজিটাল, নিউজ টিম এবং রিপোর্টিং- সবাই যার যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পরিবার মনে না করলে এই সর্বোচ্চটা দেওয়া যেত না। খবরের কাগজ একটি পরিবার হিসেবে সবাই সর্বোচ্চটাই দেওয়ার চেষ্টা করে।
ঝড়ের সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ঝড়ের সময় মানুষ দাপাদাপি না করে এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে অপেক্ষা করে যাতে ঝড়টা থামে। খবরের কাগজের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই অবস্থা হয়েছিল যে এখন দাপাদাপি করার সময় নয়, বরং এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থেকে কোনোমতে সময়টাকে পার করতে দেওয়া, এবং সেটাই করা হয়েছে।
পত্রিকার নীতি ও পেশাদারত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পত্রিকা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। পত্রিকাটিকে সর্বোচ্চ পেশাদারী একটি পত্রিকা হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং কোথাও কোনো কম্প্রোমাইজ করা হয়নি। খবরের কাগজের প্রথম আত্মপ্রকাশ এবং তারপরে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও আন্দোলন তাদের অফিসের সামনে দিয়েই হয়েছে এবং তারা গভীর খাদের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও যেকোনো মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারতেন। কিন্তু পেশাদারত্ব, সততা ও নিষ্ঠা তাদের সকল বিপদ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
নজরুলের ‘উন্নত চির উন্নত শীর’ কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাথা উঁচু করেই থাকা হবে এবং এখন পর্যন্ত কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করা হয়নি, ভবিষ্যতেও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে। সমালোচনার জন্য সমালোচনা করা হবে না। সত্য যতই কঠিন হোক এবং যার বিরুদ্ধেই হোক, তা বলিষ্ঠভাবে বলা হবে। কোনোভাবেই মিথ্যাকে স্থান দেওয়া হবে না। কেউ প্রলোভন দেখাতে বা টাকা দিয়ে মিথ্যা নিউজ প্রকাশ করার চেষ্টা করতে পারে, যাতে সামান্য কারণেও পত্রিকা বিপদে পড়তে পারে।
এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো মিথ্যা নিউজ ছাপানো হবে না, বরং সত্যের সঙ্গে বসবাস করা হবে এবং মিথ্যার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা হবে না।
বিনিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ধৈর্য এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে থাকার পরও তারাই বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতেও তারা যে অটল সাপোর্ট দিয়ে গেছেন, সেজন্য তিনি তাদের কৃতজ্ঞতা জানান।
অনেক মিডিয়া দখল হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খবরের কাগজের কোনো লোক বা কোনো পক্ষ সেখানে ইনভলভ হতে পারেনি। এটি সৃষ্টিকর্তার বিরাট সাপোর্ট ছিল বলেই এখনো তা বজায় রয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সেই সুযোগ আর থাকবে না।
ঢাকার পাশাপাশি জেলা, বিভাগ, উপজেলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা ধৈর্য নিয়ে এখনো সঙ্গে রয়েছেন।
ভবিষ্যতে বড় কিছু হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত কিছুর পরেও যখন টিকে থাকা গেছে, তখন নিশ্চয়ই এটার একটি বড় শক্তি তৈরি হবে, ইনশাআল্লাহ।
পরে খবরের কাগজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেক কাটেন সম্পাদক।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/
