প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন পোশাক ও দুপুরের খাবার চালু: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে সমতা প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পোশাক ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর হাতিরঝিলে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশে ৪৭টি বিয়াম প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষাব্যবস্থায় উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নারীশিক্ষার অগ্রগতি প্রসঙ্গে আব্দুল বারী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রবর্তিত অবৈতনিক নারীশিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচির সুফল হিসেবে নারীরা বর্তমানে প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করছে। তাঁর দাবি, গত আট মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করা, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সময়ের যথাযথ ব্যবহার করে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত রাখা, সন্ধ্যার পর একা বাইরে না যাওয়া এবং মাদক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আজকের মেধাবী তরুণদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে তাঁরাই দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারবেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের পেছনে ছুটলে চলবে না; একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা ও স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকা এবং বিপথগামীদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। মা-বাবার ত্যাগের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল থাকারও পরামর্শ দেন সিনিয়র সচিব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুল মালেক। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
