মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কথায় রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের একটি শহরে স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। আজ এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা যুদ্ধকবলিত শহর ওলেশকিতে আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইউক্রেন বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওলেশকিতে বর্তমানে বয়স্ক মানুষজনই বসবাস করছেন। তাঁদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। শহরটির পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে, বেঁচে থাকার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বাগানের আগাছা খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্প ও তাঁর একজন প্রতিনিধি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে এই স্থানীয় যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণে কাজ করেছেন।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের বেসামরিক নেতারা ওলেশকির বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তার মাত্রা নির্ধারণ করবেন। যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।
মেলানিয়া আরও বলেন, ওলেশকির বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত, রাস্তাগুলোতে মাইন পাতা এবং সেখানে নিয়মিত হামলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্কদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হতো না।
তবে বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতি কত দিন কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
খেরসন অঞ্চলের শহর ওলেশকি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকেই রুশ বাহিনীর দখলে যায়। দানিপ্রো নদী ও রুশ বাহিনীর মাঝখানে আটকে থাকা শহরটি বর্তমানে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
গত মাসে ওলেশকিতে থাকা কয়েকজন বাসিন্দা বিবিসিকে তাঁদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরটিতে নিয়মিত গোলাবর্ষণ হচ্ছে এবং খাবার ও পানির সরবরাহ নেই। বৃহত্তর ওলেশকি এলাকায় থাকা শিশুরা অপুষ্টি, চিকিৎসাসেবার সংকট ও শিক্ষার সুযোগ না থাকায় দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে।
বাসিন্দারা আরও জানান, শহরে আংশিকভাবে চালু থাকা মাত্র একটি হাসপাতাল রয়েছে। সেটিও সপ্তাহে কয়েক দিন খোলা হয় এবং সেখানে গুরুতর আহতদের অঙ্গচ্ছেদের মতো জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা শহরটির পরিস্থিতিকে রুশ বাহিনীর ‘পূর্ণ অবরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেনের দাবি, তারা ওই এলাকায় ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ পাঠানোর চেষ্টা করলেও পৌঁছাতে পারেননি।
গত সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিনও স্বীকার করেছিল, ওলেশকিতে ‘সংকটজনক পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে এবং খাবার ও ওষুধ সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ এর জন্য কিয়েভকে দায়ী করে বলেছিল, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে।
২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি দিনিপ্রো নদীর ওপারে, যা শহরটিকে ইউক্রেন থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ফলে শহরটির বাসিন্দারা যুদ্ধের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মানবিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন।
