সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৮) নামের এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় থানায় অনশন শুরু করেছিলেন নিহতের বড় দুই ভাই।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটন ও মামলা গ্রহণে গড়িমসির প্রতিবাদে এই অনশনে বসেন তারা। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে অভিযোগ আমলে নেয় পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদরের বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এর সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে কারখানার ৮ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, অফিসিয়াল বা অন্য কোনো আক্রোশের জেরে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাটক সাজানো হয়েছে। পরিবারের লোকজনকে না জানিয়েই পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
এর আগে ন্যায়বিচার ও সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবিতে নিহতের বড় ভাই ইস্কান্দার আলী লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে গড়িমসি করে ও বারবার ড্রাফট পরিবর্তন করতে বলে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই টালবাহানার একপর্যায়ে বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে অনশনে বসেন নিহতের বড় দুই ভাই কুতুবউদ্দিন খান ও ইস্কান্দার আলী খান। প্রায় বিশ মিনিট ধরে চলা অনশনের সময় থানা ফটকে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় ভাই ইস্কান্দার আলী। পরে তাদের ডেকে নিয়ে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির স্বজনের দাবি, অফিসিয়াল বা অন্য কোনো আক্রোশের জেরে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নাটক সাজানো হয়েছে। তাদের দেখতে না দিয়ে লাশ মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
হাতে লিখিত অভিযোগপত্র নিয়ে থানা ফটকে কান্নায় ভেঙে পড়ে বড় ভাই ইসকান্দার আহাজারি করে বলেন, "ভাই, আমরা নিহত জামাল উদ্দিনের বড় ভাই। আমরা দুপুর দুইটা থেকে একটা অভিযোগ দায়েরের জন্য এই থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু পুলিশ এখনও আমাদের অভিযোগ বা মামলা নেয়নি। আমরা যেখানেই যাই, কেই বা আমাদের আশ্রয় দেবে। আমরা তো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাচ্ছি। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছে, বারবার ড্রাফট পরিবর্তন করতে বলছে। আমার ভাইকে না জানিয়ে হাসপাতাল থেকে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের লাশটা দেখতে দেওয়া হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই থানা ফটক থেকেই নড়ব না।"
পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি করে তাদের থানায় ডেকে নেয় এবং অভিযোগ আমলে নেয়। পুলিশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে মামলাটি রেকর্ড করে। মামলাটিতে প্রধান আসামি করা হয়েছে শারমিন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেনকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে পরিচালক শারাফ হোসেনকে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে দুজনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
