গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানার (জেএফসিএল) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানা কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সার কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ করা হলে প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু নতুন করে গ্যাস প্রত্যাহার করায় কারখানাটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
কারখানা ও তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, স্বাভাবিক ও পূর্ণমাত্রায় ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য যমুনা সার কারখানায় দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন হয়, আর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গ্যাসের চাপ ৪৬ এমএমসিএফ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনায় রোববার ভোরে গ্যাস সরবরাহ প্রত্যাহার করা হয়, যার ফলে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
কারখানার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস পাওয়ার পর সম্প্রতি সার উৎপাদনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও সার উৎপাদিত হয়েছে মাত্র প্রায় ১৫ কোটি টাকার, যা আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোববার ভোর ৫টায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ডিসেম্বরে আবারও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যমুনা সার কারখানাটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এখানকার উৎপাদিত সারের গুণগত মান ভালো হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি। এখান থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয়।
