আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের সংযোগকারী ভারতীয় হিমালয়ের অন্যতম দুর্গম ট্রেকিং রুট লামখাগা পাস সফলভাবে অতিক্রম করে নতুন সাফল্যের নজির গড়ল নর্থ বেঙ্গল এক্সপ্লোরার্স ক্লাব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৭,৩২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দুর্গম গিরিপথে অভিযান চালিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন ক্লাবের অভিযাত্রী শুভেন্দু ভট্টাচার্য। আগামী ২৬ অক্টোবর অভিযাত্রী দলের শিলিগুড়ি ফেরার কথা রয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর উত্তরাখণ্ডের হর্ষিল থেকে শুরু হয় এই অভিযান। দলে ছিলেন দীপঙ্কর দে, বাবলা দে, আজিমুন আখতার, আগমনী দত্ত, শুভেন্দু ভট্টাচার্য এবং ঋতেশ কুমার কেডিয়া। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং উচ্চতার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যান অভিযাত্রীরা।
২০ অক্টোবর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪,৪২০ ফুট উচ্চতায় কানাতাল বেস ক্যাম্প স্থাপন করে চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়। এরপর ২২ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শুভেন্দু ভট্টাচার্য ও দীপঙ্কর দে লামখাগা পাসের উদ্দেশে চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করেন।
দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করে ওই দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ১৭,৩২০ ফুট উচ্চতায় লামখাগা পাসের শীর্ষে পৌঁছে যান শুভেন্দু ভট্টাচার্য। তবে আরোহণের পথে প্রায় ১৫,৮০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ওঠার পর শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন দীপঙ্কর দে। পর্বতারোহণে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্লাবের দাবি, এই অভিযান ছিল অভিযাত্রীদের শারীরিক সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা, সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত সমন্বয়ের কঠিন পরীক্ষা। লামখাগা পাসের মতো দুর্গম গিরিপথে এই সাফল্য নর্থ বেঙ্গল এক্সপ্লোরার্স ক্লাবের অভিযাত্রার ইতিহাসে নতুন পালক যোগ করল।
ক্লাবের ইসি কমিটির সদস্য শুভজিৎ ভদ্র জানিয়েছেন, অভিযাত্রী দলের প্রত্যেক সদস্য সুস্থ রয়েছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেলে তাঁদের শিলিগুড়িতে ফেরার কথা। এই সাফল্যে উত্তরবঙ্গের পর্বতারোহণ ও অভিযানপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
