গত নির্বাচনের আগে তারা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছিল, নির্বাচনে জেতার পর দেয়নি, এখন আবার উপনির্বাচনেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার একটা গান শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে এখন সবার উপরে বাংলাদেশ আছে? নাকি সবার উপরে বিএনপি? সবার উপরে দলের নেতাকর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলেও প্রচার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নবগঠিত ভুল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। মনে হচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড তাদের দাদার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি, তারা আমাদেরকে ফ্যামিলি কার্ডের নামেই দিতে চায়। মনে রাখবেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যে টাকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা ১৮ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকা। তারা তেলের দাম বাড়িয়েছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছেন। এসবের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অতিরিক্ত যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সুতরাং, এই টাকা ১৮ কোটি মানুষের, এটা আপনাদের দলীয় সম্পত্তি নয়।
তিনি বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের দরকার নাই, আমাদের দরকার হলো কৃষকরা যেন ঠিক মতো সার পায়। তারা যেন ঠিক মতো কৃষি কাজ করতে পারে, সারের সিন্ডিকেট যেন না থাকে। আমরা চাই বিদ্যুতের অতিরিক্ত যে দাম বসানো হয়েছে তা কমিয়ে দেওয়া হোক। আমরা চাই তেলের দাম কমিয়ে দেওয়া হোক। আমরা চাই বাজার নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে দ্রব্য মূলের ঊর্ধ্বগতি কমানো হোক। আমরা গ্যাস চাই, বিদ্যুৎ চাই আর যদি বিদ্যুৎ-গ্যাস, সার দিতে না পারেন, তাহলে গদি ছেড়ে দেন। এই গদিতে থাকলে আপনাকে এসব কিছু দিতে হবে আর না হলে আপনাদেরকে গদি ছাড়তে হবে। দেবেন না, আবার গদি ছাড়বেন না, এভাবে আপনাদেরকে ক্ষমতার সিংহাসনে থাকতে দেবো না।
জামায়াত নেতা বলেন, আসছে ডিসেম্বর। এই ডিসেম্বরের মধ্যে যদি জনগণের ৬ দফা বাস্তবায়ন না করেন তাহলে ডিসেম্বরের পরে আপনাদের ভাগ্য জনগণ নির্ধারণ করবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনটা হবে জনগণের জন্য একটি প্রতিবাদের ভাষা। আমরা সার পাইনি, গ্যাস পাচ্ছি না, বিদ্যুৎ পাচ্ছি না এর একটা শক্ত প্রতিবাদ ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সিল মেরে প্রতিবাদ জানাবো।
তিনি বলেন, সরকার দলের নেতৃবৃন্দ বলছেন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন আমাদেরকে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। বাস্তবে উন্নয়ন হয়নি। এখনো পৌরসভার বহু রাস্তা কাঁচা রয়েছে। বর্ষাকালে হাঁটা যায় না, আপনি পৌরসভা রাস্তা-ঘাটেই ঠিক করতে পারলেন না, আবার উন্নয়নের গান আমাদেরকে শোনান।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তিনি বলছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ওনাকে ভোট দেন, যেখানে আপনি উন্নয়নেই করেন নাই, কীসের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আপনি রক্ষা করবেন? বরং জনগণ এখনো উচিত কথা বলছে, ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত যে চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতা আপনি রক্ষা করেছেন, যে সিন্ডিকেটের রাজনীতি করছেন, যে দুর্নীতির রাজনীতি আপনারা করছেন, এটার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আজকে আপনি এমপির ভোট চাচ্ছেন, সুতরাং ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণ আপনাদের আর সেই সুযোগ দেবে না।
তিনি বলেন, আমি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকব না, আপনাদের এই ভাই জাতীয় পর্যায়ে নয়, দেশের বাইরেও অনেকের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমার বিশ্বাস আমি এমপি হতে পারলে শুধু রাষ্ট্রের বরাদ্দ নয়, বিদেশি বরাদ্দে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের কাজ করব। আগামী দিনের দুর্নীতিমুক্ত ঠাকুরগাঁও দেখতে চাইলে ভোট দিতে হবে দাঁড়িপাল্লায়।
ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, আমাদের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের জন প্রতিনিধিরা সবসময় প্রতারণা করে। ফ্যামিলি কার্ডের প্রতারণতা করছে। আপনারা বলেছিলেন মাদকমুক্ত বাংলাদেশ করবেন, মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলবেন। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচনের আগে। ৭ মাস হয়ে গেল আপনারা মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে পারেননি বরং এই মাদকের প্রভাব একেবারে রন্ধে রন্ধে ঢুকে গেছে। আপনার কি মনে করেন, যারা মাদকের ব্যবসা করে, মাদক যারা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকারি দলের সঙ্গে যদি তাদের সম্পর্ক না থাকে তারা মাদকব্যবসা করতে পারবে? যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে মাদক ব্যবসায়ীরা তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখে।
তিনি বলেন, ইনকামের একটা অংশ তাদেরকে দেয়, এই সুযোগে তারা মাদকব্যবসা করে, সুতরাং আপনাদের পক্ষে কখনো মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। যারা মাদক বিক্রির সহযোগিতা করে তারা কীভাবে মাদকমুক্ত করবে? এই মাদকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারবে একমাত্র দাঁড়িপাল্লা। আমরা বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করবো।
রেদওয়ান মিলন/এইচএস
