ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে ভারতীয় গরু আটকের পর তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ হয়েছে।
এ সময় বিজিবির এক সদস্যের অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়ে নোমান আলী (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্যকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নোমান আলী উপজেলার বেতকুড়ি এলাকার মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তেলিখালী বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে ছয়টি ভারতীয় গরু আটক করে। পরে আটক গরুগুলো ক্যাম্পে নিয়ে আসার পথে সংঘবদ্ধ একটি দল এর মধ্যে থেকে দুটি গরু বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেয়। অবশিষ্ট গরুগুলোও ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিজিবির টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হামলাকারীদের প্রথমে থামার জন্য সতর্ক করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও হামলা বন্ধ না করে হামলাকারীদের একজন বিজিবির নায়েক রফিককে লক্ষ্য করে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন। এ সময় নায়েক রফিকের হাতে থাকা লোড করা এসএমজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছয় রাউন্ড গুলি বের হয়ে যায়। গুলিগুলো নোমান আলীর বুকে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হালুয়াঘাটের তেলিখালী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদির জানান, টহল দলের ওপর হামলার পর আত্মরক্ষার্থেই এ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় হালুয়াঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
