আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিলিপিন্স, তাইওয়ান ও চিনের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে এই বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’। বৃহস্পতিবার এর শক্তি কিছুটা কমলেও এখনও এটি মারাত্মক বিধ্বংসী রূপ বজায় রেখেছে। আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝড়টি এখন ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমান ক্ষমতা রয়েছে, যার কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৯৭ কিলোমিটারে পৌঁছেছে।
গত সপ্তাহে একটি সাধারণ ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে তৈরি হওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র শক্তি সঞ্চয় করে এই রূপ নেয় চাম্পি। প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে আসার সময় এটি শনিবার গুয়াম দ্বীপের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে এর তীব্রতা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও কিছুটা দুর্বল হয়ে, আবার শক্তি সঞ্চয় করে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছেছে ঝড়টি।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাইওয়ানে। শুক্রবার ও শনিবার সেখানে চরম বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দিয়ে ইতিমধ্যে স্থল ও সমুদ্রে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া প্রশাসন। পূর্ব উপকূলের ইলান কাউন্টি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে চাম্পি। সেখান থেকে উত্তর-পূর্ব তাইওয়ান ছুঁয়ে এটি চিনের উপকূলের দিকে বাঁক নেবে এবং পরে জাপানের দক্ষিণে গিয়ে পড়ার কথা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাইওয়ানে বাতিল করা হয়েছে শতাধিক বিমান। ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলো খালি করে দেওয়া হচ্ছে। নিচু এলাকাগুলোয় জমা জল সরাতে পাম্পের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে উপকূল বা পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
চিনও ইতিমধ্যে তাদের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও তাইওয়ান সরাসরি ঝড়ের কেন্দ্রস্থল বা ল্যান্ডফলের কথা মানতে নারাজ, চিনের জাতীয় আবহাওয়া দফতর দাবি করছে শনিবার টাইফুনটি তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তীতে তীব্র ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে চিনের ফুজিয়ান প্রদেশে দ্বিতীয়বার আছড়ে পড়বে। পূর্ব চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি রাখা হয়েছে।
এদিকে ফিলিপিন্সে এই ঝড়টি ‘সুপার টাইফুন রোজাল’ নামে চিহ্নিত হয়েছে, যা এই বছরে তাদের দেশে ১৮তম ঘূর্ণিঝড়। সে দেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়ের কেন্দ্রটি উত্তর ফিলিপিন্সের বাটানেস থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে রয়েছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে সেখানে ১২ মিটার পর্যন্ত উচ্চ ঢেউয়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
