মাথাব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন, ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা অম্বলের কারণে এমন হচ্ছে। একটু বিশ্রাম নিলে বা ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু মাথার যন্ত্রণা যদি আচমকা শুরু হয় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অসহ্য হয়ে ওঠে, তা হলে সেটিকে সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের মাথাব্যথাকে বলা হয় ‘থান্ডারক্ল্যাপ হেডেক’— যার অর্থ, বজ্রপাতের মতো আচমকা তীব্র মাথাব্যথা।
সম্প্রতি শর্মিলা ঠাকুরের কন্যা সাবা আলি খান নিজের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কিছু উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। বোন সোহা আলি খানের পডকাস্টে এসে সাবা ভয়াবহ ঘটনার কথা মনে করলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্নায়ুরোগ চিকিৎসক মাজ়দা টুরেলও।
মা শর্মিলার সঙ্গে সাবা এবং সারা। ছবি: সংগৃহীত
সাবার তখন বয়স ২৭ বছর। আগে কোনও রকম উপসর্গই দেখা দেয়নি। কিন্তু কিছু একটা অস্বস্তি হচ্ছিল। সে দিন বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বেরিয়েছিলেন কোথাও। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে পেটের সমস্যায় ভুগতেন, তাই সাবা ভেবেছিলেন, এটা বুঝি পেটের কারণেই হচ্ছে। শরীর খারাপ লাগতেই বন্ধুকে বলে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তার পর আর কিছু মনে নেই সাবার। জ্ঞান হারান রাস্তাতেই। যখন জ্ঞান ফেরে, দেখেন ওখানেই শুইয়ে রাখা হয়েছে তাঁকে। তার পর বন্ধু সাবাকে বাড়ি নিয়ে যান। প্রায় ২০-৩০ মিনিট ধরে তিনি ঘোরেই ছিলেন। পুরোপুরি জ্ঞান ফিরতে সময় লেগেছিল। এর পর চিকিৎসা শুরু হতেই শনাক্ত হয় ব্রেন টিউমার। ২০০৬ সালে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।
ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ কী?
ব্রেন টিউমারের উপসর্গ নির্ভর করে টিউমারের অবস্থান, আকার এবং তা কত দ্রুত বাড়ছে তার উপর। মাথাব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকা, ওষুধ খেয়েও না কমা, অকারণে বমি, খিঁচুনি, দৃষ্টির সমস্যা, হাত-পায়ে দুর্বলতা, হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো কিংবা কথা বলতে অসুবিধা, এ সব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। স্মৃতিশক্তি বা আচরণে পরিবর্তনও নজরে রাখা জরুরি। মাঝেমধ্যে ফোন কোথায় রেখেছেন ভুলে যাওয়া এক জিনিস, আর ফোন কী কাজে লাগে তা ভুলে যাওয়া অন্য জিনিস। দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হওয়া, পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা, একই প্রশ্ন বার বার করা কিংবা কথা বলার সময়ে পরিচিত শব্দ মনে করতে না পারার সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
কোন কোন উপসর্গ থাকলে সতর্ক হবেন?
আচমকা তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিলে বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়ে। যেমন—
· বার বার বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব।
· ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
· চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টির পরিবর্তন।
· কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।
· হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাব।
· বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানো।
