আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভানেত্রী নেহা বোরার একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, বিশেষ করে ১৬ অক্টোবর মান্ডি হাউসে আয়োজিত সমাবেশ, যেখানে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সেখানে অংশগ্রহণের জেরে নেহা বোরাকে একজন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে ‘শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নেহা বোরা এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
বিচারপতি সুব্রামোনিয়াম প্রসাদ, বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর রায় স্থগিত রেখেছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর নেহার করা চ্যালেঞ্জ মামলায় আদেশ ঘোষণা করেন। ১৭ অক্টোবর (যেদিন নেহা বোরাকে আটকাবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়) দিল্লি জেলার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে এই নোটিশটি জারি করা হয়েছিল। নোটিশে আইসা সভানেত্রীকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকা এবং একজন জামিনদার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই নোটিশকেই চ্যালেঞ্জ করেন নেহা।
আইনজীবী অভিক চিমনি-র মাধ্যমে দাখিল করা আবেদনে নেহা বোরা যুক্তি দেন যে, নোটিশটি অস্পষ্ট ও তথ্যগতভাবে ভুল। এটি সংবিধানের ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত তাঁর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে- এমন কোনও যথেষ্ট তথ্য বা প্রমাণ এতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ঠিক কোন সময়, উপলক্ষ বা ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাও উল্লেখ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা নেহা বোরার বিরুদ্ধে ১২টি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনার উল্লেখ করেন এবং জানান যে, এই আইনি প্রক্রিয়াটি মূলত প্রতিরোধমূলক। তিনি অভিযোগ করেন, নেহা বোরা এমন একটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতারা শাসন পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন।
পাল্টা নেহা বোরার আইনজীবী, প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতের সামনে বলেন, “গণতন্ত্রে শাসন পরিবর্তন হওয়ার মধ্যে কোনও দোষ নেই।” এর জবাবে পুলিশের আইনজীবী বলেন, “শাসন পরিবর্তন হবে ভোটের মাধ্যমে, নয়াদিল্লিতে কিছু অসামাজিক উপাদানের জমায়েতের মাধ্যমে নয়।”
