বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দু’দিন, প্রথম ইনিংসের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিপর্যয়, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো ইনিংস টেম্বা বাভুমার। পরের ইনিংসে আরও বড় বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া, ৯৯ রানে অলআউট হওয়ার পর ২১ বছর পর তারা বিদেশের মাটিতে ফলো-অনেও পড়ে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে ড্রয়ের শঙ্কা ছাপিয়ে নাটকীয় গবেরহা টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা।
এর মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-১ সমতায় ফিরেছে। তাদের জয়ের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে স্বাগতিক অধিনায়ক বাভুমার একটি দৃশ্য। অজি তারকা স্টিভেন স্মিথ ৩ রানে আউট হওয়ার আগে হাওয়ায় ক্যাচ তুলেছিলেন। কিন্তু তখন দুশ্চিন্তা চেপে বসা বাভুমা উল্টো দিকে ফিরে ছিলেন, যা ধরা পড়েছে টিভি ক্যামেরায়।
কাগিসো রাবাদার শর্ট পিচ ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়েছেন স্মিথ। যা মিডউইকেটে তালুবন্দি করেছেন ম্যাথু ব্রিটজকে। যদিও বাতাসের কারণে ক্যাচটি নিতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ব্রিটজকে মিডউইকেট থেকে দৌড়ে পেছনের দিকে গেলেও তীব্র বাতাসের কারণে ক্যাচ ধরাটা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি উল্টো হাতের তালু পেতে বলটি ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রথম দফায় বলটি ফসকে বেরিয়ে যায়। তবে তিনি ধৈর্য না হারিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় লুফে নেন বলটি।
কিন্তু পুরো মুহূর্তটি অন্যদিকে ফিরে ছিলেন বাভুমা। জানতেনও না ক্যাচটি কে এবং কীভাবে ধরছে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রোটিয়া অধিনায়ক জানান, ‘ওই মুহূর্তে আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। সেন্ট জর্জেস পার্কে উঁচুতে ওঠা ক্যাচ ধরাটা বেশ কঠিন, বিশেষ করে যখন বেশ বাতাস থাকে। ক্যাচটি ধরার জন্য নিচে ঠিক কে ছিল তা আমি দেখতে পাইনি, তবে এমনটা নয় যে ওই খেলোয়াড়ের ওপর আমার আস্থা ছিল না। মূলত আবেগ আমার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল।’
আরও পড়ুন
স্মিথ যদিও ম্যাচটিতে প্রোটিয়াদের জন্য সেভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারেননি। আউট হন স্রেফ ৩ রানে। অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরানোর জোরালো চেষ্টা ছিল ট্রাভিস হেডের। তিনি ১২১ রানের ইনিংস খেলেছেন। এর বাইরে ত্রিশোর্ধ্ব কয়েকটি ইনিংস এলেও আর কেউ হাফসেঞ্চুরিও পাননি। ফলে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ইনিংস ৯৯ ও ২৯৫ রানে থামার পর তারা ৩১ রান এবং ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে। নিজেদের একমাত্র ইনিংসে বিপর্যয়ের পর বাভুমা ক্যারিয়ারসেরা ১৭৯ রানের ইনিংস খেলেন।
রোমাঞ্চকর এই জয়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রোটিয়া দলপতি বলেছেন, ‘এটি আমাদের পক্ষ থেকে একটি প্রাণবন্ত প্রচেষ্টা ছিল। ডারবানে প্রথম টেস্টের (পরাজয়) পর আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করা হয়েছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ছিল দলের চরিত্র বা মানসিকতা নিয়ে। (গবেরহাতে) পাঁচ দিন ধরে আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিক থেকেই যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল, তখন আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। লড়াইয়ে টিকে থেকেছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পেরেছি।’
এএইচএস
