রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির বিরুদ্ধে সরাসরি জয়ের সুযোগ বাংলার সামনে। সরাসরি জয় অবশ্য নির্ভর করবে বুধবার ম্যাচের চতুর্থ দিন মহম্মদ শামি, আকাশদীপদের পারফরম্যান্সের উপর। মঙ্গলবার খেলার শেষে বাংলার থেকে ৮৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে দিল্লি। প্রথম ইনিংসে আয়ুষ বাদোনিদের করা ২৪০ রানের জবাবে অভিমন্যু ঈশ্বরণেরা করেছেন ৪২৯ রান। দিনের শেষে দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংসের রান ৩ উইকেটে ১০১।
তৃতীয় দিন শুরুতে বাংলার ব্যাটারেরা দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেন। আগের দিন শতরান করে অপরাজিত থাকা দুই ব্যাটার সুদীপ ঘরামি এবং অভিষেক পোড়েল টেনে নিয়ে যান দলের ইনিংস। ঘরামি ১৩৩ রান করেন। ১ রানের জন্য ১৫০ করতে পারেননি অভিষেক। তিনি আউট হয়েছেন ১৪৯ রানে। তাঁরা আউট হওয়ার পর সুমন্ত গুপ্ত ছাড়া বাংলার আর কোনও ব্যাটার অবশ্য বলার মতো কিছু করতে পারেননি। সুমন্ত খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে বাংলার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন বাদোনি। তিনি ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন কল্যাণীর ২২ গজে।
প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানে পিছিয়ে থেক দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে দিল্লি। কিন্তু দিল্লির ব্যাটারেরা প্রত্যাশিত লড়াই করতে পারলেন না। দুই ওপেনার স্বার্থক রঞ্জন (৩) এবং সনৎ সাঙ্গওয়ান (২৫) অত্যন্ত মন্থর ব্যাটিং করলেন। রানও পেলেন না। তিন নম্বরে নেমে যশ ঢুল (০) আকাশের বলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। প্রথম বলেই চোট লাগে তাঁর। দিল্লিকে ভরসা দিতে পারেননি চার নম্বরে নামা আয়ুষ দোসেজাও (১৯)।
৫৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি। সেই চাপ কাটানোর চেষ্টা করছেন বাদোনি এবং অনুজ রাওয়াত। দিনের খেলার শেষে বাদোনি ২৪ এবং রাওয়াত ২৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। বুধবার ম্যাচের শেষ দিন।
সরাসরি জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলার। অন্তত চা বিরতির মধ্যে শামিরা দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে দিতে পারলে প্রথম ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট পেতে পারে লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল। ৮৮ রানের মধ্যে বাকি ৭ উইকেট তুলে নিতে পারলে বোনাস পয়েন্টও পেয়ে যাবে বাংলা। এই ম্যাচ থেকে ঈশ্বরণেরা শেষ পর্যন্ত কত পয়েন্ট পাবেন, তা এখন নির্ভর করছে মূলত বোলারদের উপরই।
দিল্লির দ্বিতীয় ইনিংসে ১টি করে উইকেট পেয়েছেন আকাশ, মুকেশ কুমার এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ভাল বল করলেও উইকেট পাননি মহম্মদ শামি এবং আমির গনি। চাপে থাকা দিল্লির ব্যাটারদের চতুর্থ দিনের পিচে সমস্যায় ফেলা কঠিন হওয়া উচিত নয় ঘরোয়া ক্রিকেটে দেশের অন্যতম সেরা বোলিং লাইনআপের।
