ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করায় এক যুবদল নেতাকে হাতুড়িপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় যুবদল নেতাকে বাঁচাতে গেলে তাঁর তিন সমর্থককেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
আহত যুবদল নেতার নাম শেখ খোরশেদ আহমেদ ওরফে দোলন। তিনি রামনগর ইউনিয়নের দুলারডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং জেলা যুবদলের সদস্য।
আহত অন্য তিনজন হলেন একই ইউনিয়নের উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের সুমন তালুকদার (৩৬), গোপালপুর গ্রামের ওয়াজেদ মোল্লা (৫০) ও বাড়ৈইডাঙ্গী গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৫০)। তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সারের ডিলারশিপ পেতে নগরকান্দা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১২ থেকে ১৫টি করে আবেদন জমা পড়ে। আবেদনপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে ডিলারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার মনোনীত করা হয়। পরদিন শুক্রবার সেই তালিকা প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামনগর ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেতে আবেদন করেছিলেন আহত যুবদল নেতা খোরশেদ আহমেদ এবং একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মান্নান মন্ডলের ছেলে শিবলী সাদিক ওরফে তুষার মন্ডল (৩০)। তাঁদের মধ্যে শিবলী সাদিককে ডিলার মনোনীত করা হয়। গত রোববার নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বঞ্চিত ডিলাররা। সেখানে শিবলী সাদিক টাকা দিয়ে ডিলার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন যুবদল নেতা খোরশেদ আহমেদ। এর জেরে তাঁর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোরশেদের ভাই শেখ ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় বাজারে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন খোরশেদ। তখন শিবলীর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন হাতুড়ি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা করেন। তিনি বলেন, ‘সারা জীবন বিএনপি করে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে যারা বাঁচাতে গেছে প্রত্যেককেই পেটানো হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে শিবলী সাদিকের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল প্রথম আলোকে বলেন, সারের ডিলারশিপ নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদের জেরে এ মারামারি হয়েছে।
মারামারির ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান বলেন, বঞ্চিত ডিলাররা যে অভিযোগ করেছেন, তার মধ্যে সত্যতা আছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপির কর্মীর সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ডিলারশিপ না দিয়ে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কাউকে দিলেও তো ক্ষোভ তৈরি হবে। এখানেও তাই হয়েছে।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। মনোনয়ন পাঠানোর পর আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না।’ তিনি বলেন, শুধু বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে, নীতিমালার কোথাও এমন কিছু নেই।
