Published on
:
2 min read
নিজের লোকসভা কেন্দ্রেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদ মিতালি বাগ। চোরবাগান বিপর্যয়ে আরামবাগের বালিয়ার একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, সোমবার সেই শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
গত শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বালিয়াগ্রামের মলয়পুরের পিয়ালী প্রামাণিক (২৩), তাঁর বড় ননদ টগর বেইজ (৩৭) এবং টগরের ছেলে সন্দীপ বেইজ। সন্দীপ ও টগরের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানে। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাবেন বলে তাঁরা পিয়ালীদের বাড়ি এসেছিলেন। তার পরে বাড়ির আট সদস্য মিলে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন কলকাতায়।
এ দিন সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বালিয়া গ্রামে গিয়েছিলেন মিতালি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শোকস্তব্ধ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ সাংসদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। দেওয়া হয় ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। এমনকী গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। পরে, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভ থেকে ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’, ‘তৃণমূলের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানও ওঠে। তবে নিয়ে মুখ খুলতে চাননি মিতালি। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাতপরিচয় কয়েক জন আমার গাড়ি আটকান। তাঁরা কেন, কী কারণে এমন করলেন, বলতে পারব না’ তবে তিনি স্বজনহারাদের পাশেই আছেন বলে জানিয়েছেন সাংসদ। মিতালির কথায়, ‘কিছুদিন আগে আমার মা মারা গিয়েছেন। আপনজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। একজন মানুষ হিসেবেই তাঁদের পাশে দাঁড়িতে গিয়েছিলাম।’
সাংসদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা প্রশান্ত দিগার। তিনি বলেন, ‘জনগণ সাংসদের পাশে নেই। এলাকায় কাজ না করায় স্থানীয় মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলেই মনে হয়।’
