রংপুরের বদরগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটকের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন মমতাজুর রহমান নামে এক মাদককারবারি। তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছেন এলাকাবাসী। শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় ডিবি পুলিশের হাত থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান তিনি।
গভীর রাতে উদ্ধার হয়েছে হাতকড়া, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ একজনের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মমতাজুর রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের দাবি, বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকেই সাহস পান না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৮টার দিকে রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের সাদা পোশাকধারী একটি দল শিবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মমতাজুর রহমানকে মাদকসহ আটক করে তার হাতে হাতকড়া পরানো হয় বলে জানা গেছে। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তিনি- এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। ঘটনার পর তাকে ধরতে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
গভীর রাতে গ্রামপুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু হাতকড়া পাওয়া গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কিভাবে তিনি পালিয়ে গেলেন, পালানোর সময় দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি ছিল কিনা- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মমতাজুর রহমান এলাকায় পরিচিত মুখ এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।
তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
মমতাজুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আজিজুল হক বলেন, সে স্থানীয় বিএনপির সদস্য। কেউ বিএনপির কথা বলে মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অন্য কোনো অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া দরকার। আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন, যারা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ঘটনাটি সত্য। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এলাকায় গিয়েছিলাম। গভীর রাতে গ্রামপুলিশ, এলাকার লোকজনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি, তিনি দ্রুত ধরা পড়বেন।