চট্টগ্রামের পটিয়ায় চিনিবোঝাই কাভার্ডভ্যান থেকে ১৫ টন চিনি লুটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মনসা বাদামতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সড়কের পাশ থেকে চালককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও পটিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কাভার্ডভ্যানটি থেকে এ চিনি লুট হয়। লুট হওয়া চিনি এখনো উদ্ধার হয়নি। তবে চিনি বোঝাই করা কাভার্ডভ্যানটি বুধবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার সামনে থেকে খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
কাভার্ডভ্যানের চালকের নাম আলমগীর (৪৫)। বুধবার সকালে পটিয়া উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কাভার্ডভ্যানের মালিক জাকির হোসেন জানান, মেঘনা কোম্পানির চিনি নিয়ে গাড়িটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় ফুলকলী ফ্যাক্টরিতে ১৩ টন চিনি সরবরাহ করা হয়। এরপর পটিয়ার ফুলকলী ফ্যাক্টরিতে সরবরাহের জন্য আরও ১৫ টন চিনি নিয়ে গাড়িটি রওনা হয়।
জাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গাড়িটি মইজ্জারটেক এলাকায় থাকা অবস্থায় চালক তাঁকে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন। পরদিন সকাল ৯টার দিকে তিনি চালককে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পান।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সুবাদে চালকের পূর্বপরিচিত অপর কাভার্ডভ্যানচালক আবুল কালাম আলমগীরকে সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি আলমগীরকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আবুল কালাম জানান, তখন চালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শামা জানান, অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর শরীরে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রবেশ করানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম পটিয়া থানায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনাটি পুলিশের তদন্তাধীন জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত পুরো ঘটনা জানা যাবে।
বিআলো/শিলি