মণিপুরের রাস্তায় সেনা টহলছবি:এক্স
Published on
:
2 min read
গত এক মাসে মণিপুরে হিংসায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ জনের। এর পরেও সেখানে হিংসা থামার কোনও লক্ষণ নেই। এর মধ্যে সোমবার, কাংপোকপি এবং ইম্ফল সীমান্তে হামলায় নিহত হয়েছেন দু'জন। এর পরেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে দু’টি দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। রবিবার রাতেও মণিপুরে থৌবাল জেলায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের। এই হিংসার ঘটনার পরে থৌবালে জারি করা হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ।
তিন বছরের বেশি সময় ধরেই অশান্ত মণিপুর। মেইতেই এবং কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে সেখানে নিহত হয়েছে কমবেশি ২৬০ জন। আর, গত কয়েক দিন ধরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে মণিপুর। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কুকি এবং নাগাদের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫০ জনের। এর মধ্যে গত এক মাসেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০ জনের। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি উপযুক্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউ খেমচাঁদ সিং। তার পরেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং, প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে।
গত ৯ এবং ১০ তারিখে মণিপুরের কামজং, কাংপোকপি এবং উরখুল জেলায় সংঘর্ষে মৃত্যু হয় অন্তত ৯ জনের। শনিবার, মায়ানমার সীমান্তে থাকা মণিপুরের কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আরও এক জনের। ঘটনায় আহত হন কুকি সম্প্রদায়ের চার জন। এর রেশ কাটার আগেই কামজং জেলারই একাধিক গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় অন্তত ২৮টি বাড়িতে। আর তার পরেই থৌবাল জেলায় হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের। এর পরেই সেখানে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
রবিবার রাতে, থৌবাল জেলায় দু’টি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে পুলিশ। ওই এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে ইম্ফল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে থৌবাল থানা এলাকার খাঙ্গাবক (Khangabok) গ্রামে একটি কনসার্ট চলাকালীন একদল লোক সেখানে পাথর ছুড়তে শুরু করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে খাঙ্গাবক ও সাঙ্গাইউমফাম (Sangaiyumpham) এলাকার দু’টি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। সেই সময়েই সেখানে গুলি চালায় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা। গুলি লাগে লাইশরাম রাকেশ নামে এক জনের মাথায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় আহত কয়েকজনকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা। এর ফলে, ওই এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। সেখানকার বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই এলাকার শান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এলাকায় পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীকেও।
অন্য দিকে, সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নংশুম, খোংবাল থাংখুলে (Khongbal Thangkhul) জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়েছিলেন কয়েক জন। সেই সময়ে তাঁদের উপর হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। হামলায় নিহত হয়েছেন দু’জন। আহত হন তিন জন। এর পরেই ক্ষুদ্ধ বাসিন্দারা, নিহতদের দেহ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের গেটের সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখান।
গত কয়েক দিনে মণিপুরে বাড়ছে হিংসার ঘটনা। এরই প্রতিবাদে এবং ক্ষোভ জানিয়ে এদিন এই পদক্ষেপ করেন বাসিন্দারা। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে বাড়ানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা।
